কালের গর্ভে হারিয়ে গেল আরো একটি বছর ২০২৫। শুরু হলো নতুন বছর ২০২৬। নববর্ষ সব সময়ই আনন্দের। মানুষ বহু প্রাচীনকাল থেকে পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণ করে নিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে। দেশে দেশে তাই নতুন বছর শুরুর মুহূর্তটি উদযাপিত হয় বিপুল আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে।
কিন্তু বাংলাদেশে ২০২৬ সাল শুরু হলো দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় অন্যতম নেত্রী, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দুঃখের ঘটনা দিয়ে, যখন দেশবাসী গভীরভাবে শোকাহত ও বিমর্ষ। তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আমরা শুরু করছি নতুন বছরটি।
২০২৬ সাল আমাদের মধ্যে আসছে একটি নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে। সেটি হলো- একটি নতুন গণতান্ত্রিক উত্তরণের সম্ভাবনা। ২০২৪ সালের আগস্টে জাতির কাঁধে চেপে বসা দীর্ঘকালের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির নতুন সূর্যোদয় হয়েছিল ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। তারই ধারাবাহিকতায় এখন জাতির সামনে আছে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্রে উত্তরণের দায়। একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রস্তুতির সময়। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই উত্তরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক মাইলফলক। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছে। জনগণের বাক-ব্যক্তি-মানবাধিকারসহ ভোটাধিকারও হরণ করা হয়েছে। একাধিক প্রজন্মের তরুণ ভোটাররা এবারই জীবনে প্রথম ভোট দেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজের ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন। স্বাভাবিকভাবেই দেশে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এখন একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারলেই গণতন্ত্রে উত্তরণের সেই মাইলফলক আমরা স্পর্শ করতে পারব। সাথে আছে সার্বিকভাবে রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার। আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর বাইরের হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ধারাবাহিকতা তৈরি করা হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসা এই জাতির আন্তরিক চাওয়া।
চব্বিশের বিপ্লবে সৃষ্ট জন-আকাক্সক্ষার অনুকূলে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার রাজনৈতিক দলগুলোর আছে।
জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদী সরকার যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে রেখে গেছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সংস্কারের অঙ্গীকার পূরণ করতেই হবে। নতুন বছরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যারা ক্ষমতায় আসবেন, সেই নির্বাচিত সরকার এবং সংসদীয় দলগুলো সেই অঙ্গীকার পূরণে নিষ্ঠাবান ও আন্তরিক হলে নতুন বছরে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের পথ সত্যিকার অর্থেই সুগম হবে। একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে জাতির আর্থসামাজিক মুক্তি ও সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তারা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন- এই প্রত্যাশায় জাতি আজ নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে।
আশা করা যায়, নতুন বছর বাংলাদেশের জন্য ফ্যাসিবাদের ক্ষত মুছে ফেলে নতুন স্বদেশ বিনির্মাণের পথ খুলে দেবে। ক্ষুধা দারিদ্র্যের নিগড় ভেঙে, অশিক্ষার অন্ধকার দূর করে, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের মুখে হাসি ফোটানোর আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে। একটি সুখী সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশের আকাক্সক্ষায় উজ্জীবিত জাতির প্রতিটি নাগরিকের জীবন নতুন আলোয় আলোকিত হবে- এই হোক নববর্ষে আমাদের সবার অঙ্গীকার।



