বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীতে হঠাৎ মাছ মরে ভেসে উঠছে। আশপাশের গ্রামের উৎসুক জনতা বিভিন্ন প্রজাতির মরা মাছ ধরতে নদীর পাড়ে ভিড় করছে।
একটি সহযোগী দৈনিকের শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতার পাঠানো খবরে জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে চলা করতোয়া নদীতে হঠাৎ করে ভেসে উঠেছে মরা মাছ। অনেকে জাল দিয়ে বা খালি হাতে সেসব মরা মাছ ধরছে।
প্রচণ্ড শীত, ঘন কুয়াশা, নদীর পানি কমে যাওয়া এবং শিল্প-কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য ও আবর্জনার কারণে পানির অক্সিজেন কমে যাওয়ায় হঠাৎ মাছ মরে যাচ্ছে বলে ধারণা করছে সাধারণ মানুষ।
করতোয়া নদীর কালীতলা ঘাট থেকে করতোয়া ব্রিজ পর্যন্ত অংশে ছোট-বড় নানা প্রজাতির মাছ মৃত ও অচেতন অবস্থায় ভেসে উঠতে দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীপাড়ে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। অনেকেই বিপুল উৎসাহে জাল নিয়ে বা খালি হাতে মাছ সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
মাছ ধরতে আসা এক তরুণী বলেন, ‘এভাবে আগে কখনো মাছ ভেসে উঠতে দেখিনি। নদীর পানি দূষিত হয়ে কালচে হয়ে গেছে, গন্ধ ছড়াচ্ছে। মনে হচ্ছে, পানিতে বিষাক্ত কিছু মিশেছে।’
মাছ শিকারি আলী হাসান বলেন, ‘ভোর থেকেই মানুষ মাছ ধরছে। অনেক মাছ মরে গেছে, আবার কিছু আধা মরা অবস্থায় ভাসছে। পানি স্বাভাবিক নয়, নদীর পরিবেশ ঠিক নেই বলেই এমনটি ঘটেছে।’
ছোট-বড় বিভিন্ন কলকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা হয়। আবার নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা বাড়ি, দোকানপাট ও বাজারের বর্জ্য-আবর্জনা দীর্ঘ দিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে নদীতে ফেলা হচ্ছে। এসব কারণে করতোয়ার পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে শুধু মাছ নয়, পুরো জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘তীব্র শীতে নদীর তাপমাত্রা কমে গেছে। নদীর পানিপ্রবাহ হ্রাস পেয়েছে। বর্জ্য ও আবর্জনা মিশে নদীর পানির দূষণ বেড়ে যাওয়ায় নদীতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেছে। এ কারণেই মাছ মারা যাচ্ছে বা অচেতন অবস্থায় ভেসে উঠছে।’ শীতকালে নদীর পানি কমে যাওয়ায় অক্সিজেন-সঙ্কট তীব্রতর হয়। অপরিকল্পিত ময়লা ও কলকারখানার আবর্জনা ফেলায় যোগ হয় এ অবস্থা। অতীতের খরস্রোতা করতোয়া এখন মৃতপ্রায়। দূষণজনিত কারণে মাছ টিকতে পারছে না। মাছ মরে ভেসে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা এসব কারণ উল্লেখ করেছেন।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি উজানের দেশের বাঁধ দিয়ে যৌথ নদীর পানি সরিয়ে নেয়ার কারণে বাংলাদেশের নদীগুলো ক্রমেই পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। অনেক নদী এরই মধ্যে অস্তিত্ব হারিয়েছে। এ অবস্থায় অন্তত দূষণমুক্ত করে জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।



