যমুনা-ব্রহ্মপুত্রে নাব্যতা সঙ্কট, নৌপথের প্রতিবন্ধকতা দূর করুন

যাতায়াতের জন্য দেশে নদীপথ সময়-সাশ্রয়ী ও বেশ আরামদায়ক। তারপরও নৌপথ উন্নয়ন নিয়ে সরকারের খুব বেশি আগ্রহ দেখা যায় না। সড়কপথ সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পায়। সময়মতো উদ্যোগী হলে নদীপথের আজকের এই দুরবস্থা হতো না।

শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ কারণে এ পথে যাতায়াত করা মানুষ কষ্টে আছেন। সরকারের উদ্যোগেই শুধু নদীপথের এ সমস্যা দূর হতে পারে। শনিবার নয়া দিগন্তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামালপুরের যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদে দেখা দিয়েছে তীব্র নাব্যতা সঙ্কট। নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বহু স্থানে চর জেগে উঠেছে, কোথাও আবার ডুবোচরের কারণে নৌ-চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে জেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নৌপথে ছোট-বড় প্রায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন প্রতিদিন এ পথে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী। পাশাপাশি লোকসানের মুখে পড়েছেন ফেরি, খেয়া ও কুলঘাটের ইজারাদাররা।

নাব্যতা সঙ্কটের কারণে বাহাদুরাবাদ-বালাসী ও মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি নৌপথে বর্তমানে নৌযান চলাচল কার্যত বন্ধ। ছোট ছোট ট্রলারও অনেক ক্ষেত্রে মাঝ নদীর ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে। ফলে যাত্রীরা নদী পার হতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের পথ ছিল বালাসী-বাহাদুরাবাদ নৌরুট। এ পথে নিয়মিত ফেরি চলাচল করত। লোকজন অনেক স্বাচ্ছন্দ্যেই এ পথ ব্যবহার করে রাজধানীর সাথে যাতায়াত রক্ষা করত। যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর বালাসী-বাহাদুরাবাদ নৌরুটটি বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর ২০১৪ সালে আবার এ পথে ফেরি চলাচলের সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই ফেরি চলাচলের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ লক্ষ্যে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই ঘাটে টার্মিনালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। ২০২১ সালের জুনে এসব স্থাপনা উদ্বোধনও করা হয়। কিন্তু স্থাপনাগুলো এখন প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে আছে। কারণ, বালাসী-বাহাদুরাবাদ নৌপথে চর পড়ে গেছে। বালাসী-বাহাদুরাবাদ নৌপথে নিয়মিত নদী খনন হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার এ পথে নাব্যতা সঙ্কট দূর করতে একের পর এক প্রকল্প নিয়েছে। সেসব শুধু সরকারি অর্থের অপচয় করেছে। নাব্যতা সঙ্কট দূরে কাজে আসেনি।

ক্রমাগত নদী দখল, নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, দীর্ঘদিন নদীতে কচুরিপানা জমে থাকা, স্লুইস গেট কাজ না করার কারণে এই নাব্যতা সঙ্কট তৈরি হয়েছে। নাব্যতা সঙ্কট দূর করার কাজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএর। প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো তার দায়িত্ব পালন করেনি। ফলে প্রধান প্রধান নৌপথে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

জামালপুরের যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদে জরুরি ভিত্তিতে খননকাজ করতে হবে। তা নাহলে যতটুকু চলাচল রয়েছে নদীতে সেটাও ঝুঁকিতে পড়বে। নদী দখল করে নৌপথ সঙ্কুচিত করছে প্রভাবশালীরা। নদী রক্ষায় একটি কমিশন থাকলেও তারা কার্যকর নয়।

কেবল নৌপথ রক্ষা নয়, দেশের সব নদী রক্ষায় আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। নদীর জীবন বাঁচানো গেলে এর ইতিবাচক দিক হিসেবে নৌপথও রক্ষা পাবে।