লুটপাটের সুযোগ করে দেয়ার জন্য ব্যাংক খাতে নিয়ম-কানুন শিথিল করে নানা ফাঁকফোকর বের করা হয়। শেখ হাসিনার অলিগার্করা এই সুযোগ নিয়ে দেশের পুরো ব্যাংক খাত গিলে খেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ম-কানুন পুনঃস্থাপন করে ফাঁকফোকর বন্ধ করে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার আপাত ধস রোধ করেছে। এখনো বাংলাদেশের পুরো ব্যাংক ব্যবস্থা ধসে পড়ার ঝুঁকিতে আছে। দুর্ভাগ্যজনক হলো— নতুন করে ব্যাংকখেকোদের জন্য পুরনো বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় মাফিয়া এস আলমের আনাগোনা এ খাতে ফের লক্ষ করা হচ্ছে। তার সমর্থকরা ইসলামী ব্যাংক নিয়ে শক্তির মহড়া দিয়ে বৃহৎ এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছে।
রাজধানীর মতিঝিলে গত রোববার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এস আলমের পক্ষ থেকে শত শত লোক জমায়েত করা হয়। এ সময় তাদের পক্ষ থেকে নানা অন্যায্য দাবি উত্থাপন করা হয়। অবৈধ দখলদার এস আলমের কাছে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ফের তুলে দেয়ার দাবি জানায় তারা। তার সময়ে সব নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করে নিয়োগ দেয়া ব্যাংক কর্মকর্তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার দাবিও তুলে ধরা হয়।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এস আলম ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেন। তার নিয়োগ করা কর্মকর্তাদের অনেকের নামেও অর্থ তুলে নেয়া হয়। জনবল নিয়োগে এস আলম কোনো আইন মানেননি। ১০ সহস্রাধিক লোককে নিজ এলাকা পটিয়া থেকে নিয়োগ দেন তিনি। এস আলম এবং ওই সময় নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা উভয়ে অপরাধী। একটি ব্যাংককে এভাবে ধসিয়ে দেয়ার অপরাধে তাদের বিচার হওয়ার কথা। গ্রাহকদের আমানত এস আলম ফেরত দেননি। হাসিনার পতনের পর এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে তিনি। তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা যাচ্ছে না।
পটিয়া থেকে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশকে নিয়ম অনুযায়ী চাকরি থেকে সরানো হলেও কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ব্যাংকটির দুই কোটি আমানতকারী এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার পাননি; কিন্তু এর মধ্যে তারা ব্যাংকটি ফের কুক্ষিগত করতে প্রকাশ্যে শক্তির মহড়া শুরু করে দিয়েছে। এ কর্মসূচিতে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে লোক আনা হয়েছিল। তাদের রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে রেখে রোববার ব্যাংকটির সামনে জড়ো করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেখা যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় এ ধরনের শোডাউন অগ্রহযোগ্য হলেও প্রশাসনের চোখের সামনে এমনটি হয়েছে।
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক। শেখ হাসিনার অলিগার্ক চক্র লুটেপুটে নেয়ার পরও নিয়মনীতি ফিরিয়ে আনায় আবার ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমানতকারীর সংখ্যা নতুন করে বেড়েছে। বেড়েছে আমানতের পরিমাণও। ফের যদি ব্যাংকটি পুরনো দুষ্টচক্রের কব্জায় চলে যায়, তাহলে দেশের পুরো ব্যাংকব্যবস্থা আক্রান্ত হতে পারে। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলায় সরকারকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার অন্য কোনো বিকল্প নেই।



