ভোটের দিন সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যের শঙ্কা, ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ এখনো আছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দোরগোড়ায়। কিন্তু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে কি-না তা নিয়ে জনমনে শঙ্কা এখনো দূর হয়নি। বিশেষত সন্ত্রাসীদের দাপট একটি বড় শঙ্কার বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। একদিকে জুলাই বিপ্লবের সময় যে অস্ত্র খোয়া গেছে, সেগুলো সব উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, বৈধ অস্ত্র জমাদানের যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল, তাতেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি। ফলে মাঠে থাকা বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের একটি নেতিবাচক প্রভাব যে নির্বাচনে পড়তে পারে, সে ঝুঁকি রয়ে গেছে।

নয়া দিগন্তের প্রতিবেদন মতে, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত দিন পার হলেও বৈধ অস্ত্র জমা দেয়ার বিষয়ে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে এখনো সারা দেশে জমা দেয়া অস্ত্রের কোনো তথ্য বা হিসাব নেই। গোয়েন্দা সূত্র মতে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে পাঁচ হাজার ৭৬৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র লুট হয়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন ধরনের ১০ হাজার ৫০৬টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়। এগুলোর মধ্যে ৬৫৭টি অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। অন্যদিকে, পুলিশ সদর দফতরের সূত্র মতে— পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্রের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৭৬৩টি। এর মধ্যে এখনো উদ্ধার হয়নি এক হাজার ৩৩১টি। গোলাবারুদ খোয়া গেছে ছয় লাখ ৫২ হাজার আটটি। উদ্ধার হয়নি দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪টি।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বারবার তাগিদ দেয়া হয়েছে। সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে যৌথ বাহিনীর টহলও বহাল রেখেছে। কিন্তু সরকার গঠনের এত দিন পরও কেন এখনো খোয়া যাওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার করা গেল না, তা বোধগম্য নয়। এটি যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা, তা অস্বীকারের সুযোগ নেই।

এবারের নির্বাচন নানা দিক থেকে বেশ চ্যালেঞ্জিং। একদিকে পতিত ও বিতাড়িত স্বৈরাচার নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত, অন্যদিকে দেশে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু মহল নির্বাচন ভণ্ডুলে তলে তলে ষড়যন্ত্র করছে বলে বাতাসে গুঞ্জন রয়েছে। এমতাবস্থায়, অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনবিরোধী স্বার্থান্বেষী মহলের মনোবাসনা পূরণে ব্যবহৃত হবে না— তা বলা যায় না। সঙ্গত কারণে সারা দেশে টার্গেটভিত্তিক অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার অভিযান জোরদার করতে হবে। লোকদেখানো অভিযানে না গিয়ে প্রকৃত অর্থে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে হবে। সর্বোচ্চ সংখ্যক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া শুধু ড. ইউনূস সরকারের জন্য জরুরি নয়, দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতায়ও অত্যন্ত জরুরি। সবার সহযোগিতায় দেশে একটি সুন্দর নির্বাচন হোক, এটি সবার প্রত্যাশা। এর ব্যত্যয় ঘটলে দেশের রাজনীতি আবারো অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। এমতাবস্থায়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব পক্ষের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তা এখনই।