নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা, সব পক্ষকে বিধি মেনে চলতে হবে

যেহেতু নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথ প্রতিপালনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনেকখানি নির্ভরশীল, সঙ্গত কারণে সব পক্ষ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে, এমনটাই প্রত্যাশিত।

পতিত শেখ হাসিনার আমলে ২০১৪ সালে দলীয় সরকারের অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশ থেকে নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। নির্বাচনের নামে তখন যা হয়েছে, তা ছিল রীতিমতো তামাশা।

গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানে দেশে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এবার অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে এসেছে। এ নির্বাচনের ভেতর দিয়ে দেশ আবার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ফিরবে আশা করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি থেকে। কিন্তু এর আগেই বিধি ভঙ্গ করে সারা দেশে ভোটের প্রচারে নেমে পড়েছেন অনেকে। নির্বাচনী এলাকার পাশাপাশি প্রচার চালানো হচ্ছে অনলাইন মাধ্যমেও। এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া ও সতর্ক করার মধ্যে সীমিত আছে। দু-একটি ক্ষেত্রে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। কোথাও দল ও প্রার্থীর পক্ষ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার শোকজ দেয়ার এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এবার নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা মেনে চলার অঙ্গীকারনামা দিয়েছিলেন। অঙ্গীকার রক্ষার তেমন তাগিদ বোধ করছেন না অনেক প্রার্থী। প্রায় সব দলের প্রার্থীরা আচরণ বিধিমালা ভাঙছেন।

আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না। আচরণবিধি লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান আছে। কোনো দল বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া যায়। এ ছাড়া আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থিতা বাতিলেরও ক্ষমতা আছে ইসির।

ভোটের মাঠে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা দেখতে তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে প্রতিটি উপজেলায় দু’জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। এ ছাড়া মাঠে আছে আসনভিত্তিক নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অনুসন্ধান কমিটি মূলত মাঠপর্যায়ে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

সহযোগী একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৭ জেলায় অন্তত ৭৩ জনকে শোকজ করা হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে। কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রার্থী ও সমর্থকদের জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি কতটুকু মানা হচ্ছে, তা মূলত দেখা যাবে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর। প্রকৃত বাস্তবতায় এটি তিনটি পক্ষের ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত, ইসি কতটা দৃঢ়তার সাথে ব্যবস্থা নেয়; দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কেমন হয় এবং তৃতীয়ত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের। এ ক্ষেত্রে দল ও প্রার্থীদের সদাচরণ খুব গুরুত্বপূর্ণ।

যেহেতু নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথ প্রতিপালনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনেকখানি নির্ভরশীল, সঙ্গত কারণে সব পক্ষ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে, এমনটাই প্রত্যাশিত।