আর মাত্র তিন সপ্তাহ পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সফল নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে ফিরবে বাংলাদেশ। কিন্তু একটি মহল বাংলাদেশের গণতন্ত্রে উত্তরণ চায় না। তারা নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। নির্বাচন ভণ্ডুল করার অশুভ চক্রান্তে মেতে উঠেছে। নির্বাচন বানচাল করে তারা দেশকে একটি স্থায়ী অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে চায়। এটি সেই ফ্যাসিবাদী শক্তি যারা গত ১৫ বছর দেশে চরম ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করে পুরো দেশ লুটেপুটে খেয়েছে। এখন নির্বাচন নিয়ে আবারো তারা গোপনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ পেশাদারি অবস্থানে থেকে সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। নিরাপত্তা বজায় রাখতে তার বাহিনীর সতর্কতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর থেকে পতিত ফ্যাসিবাদী চক্র স্থিতিশীলতা নষ্টে যারপরনাই মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর আগে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধে দেশব্যাপী নাশকতা চালানোর অপচেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্র করে আবারো তেমনই ছক কষছে। দেশে-বিদেশে ঘাপটি মেরে থাকা হাসিনা ও তার সহযোগীরা একযোগে মাঠে নেমে গেছে। প্রথমবারের মতো দিল্লিতে তারা সংবাদ সম্মেলন করেছে।
হাসিনার সরকারকে অবৈধভাবে ১৫ বছর ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে যারা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে, দেশের ভেতরে সেসব পুলিশ, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের তারা সংগঠিত করছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচনের আগে অন্তর্ঘাত চালানো হবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের দিয়ে দেশব্যাপী নাশকতা করা হবে। নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনা সমর্থক ব্যবসায়ীরা এ কাজে ১০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠন করেছে। এই অর্থ দুই ভাগে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এক ভাগ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের লোকদের জন্য আরেক ভাগ মাঠে নাশকতাকারীদের দেয়া হবে। দেশ থেকে লুটে নেয়া অর্থ তারা এ কাজে ব্যবহার করছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে এদের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে হবে।
সেনাসদস্যদের পৃথক দু’টি সভায় বক্তৃতাকালে সেনাপ্রধান সামরিক বাহিনীকে বলিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে জেলা-উপজেলাপর্যায়ে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনী সহিংসতা, ভয়ভীতি ও নাশকতা আগেভাগে দমন করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনে এমন নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টি করতে হবে, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারেন। সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক পক্ষের নয় উল্লেখ করে ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো ধরনের ভয়, চাপ বা প্রতিবন্ধকতা যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি রাখতে হবে। এর সাথে নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক পক্ষগুলোকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। তাদের হঠকারী কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে যাতে ফ্যাসিবাদীরা সুযোগ না পায়। নির্বাচন কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেয়া যাবে না। সেটি অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দল এবং দেশের জন্য ভালো হবে না।
নির্বাচন আয়োজনে প্রত্যেক অংশীজন সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল আচরণ করবেন, এটিই কাম্য।



