নির্মাণকাজ শেষ না করে বিল তুলে লাপাত্তা, এমন দুর্নীতি রোধ করুন

এলাকাবাসীর মতো আমাদের প্রত্যাশা, উল্লিখিত অডিটোরিয়াম ভবন যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।

আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। এমন একটি দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা অডিটোরিয়াম ভবন নির্মাণকাজে। নির্মাণকাজ শেষ না করে বিল তুলে উধাও ঠিকাদার। ভবনটি হস্তান্তরের আগে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ চুঁইয়ে পড়ছে পানি। একটি সহযোগী দৈনিকের পিরোজপুর প্রতিনিধির প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রোগ্রামের জন্য নাজিরপুর উপজেলাবাসীর দাবি ছিল আধুনিক অডিটোরিয়াম ভবনের। উপজেলায় একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কিছু কাজ করে ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছেন। অডিটোরিয়াম ভবনটি কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে। অডিটোরিয়ামটি নির্মাণ তদারকির দায়িত্বে থাকা পিরোজপুর ও নাজিরপুর এলজিইডি অফিস রহস্যজনক নীরবতা বজায় রাখছে।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জানা গেছে, মেসার্স সিমরান মায়ান ট্রেড এটারপ্রাইজ, এমএমটিআই (জেভি) দু’টি প্রতিষ্ঠানের জয়েন্ট ভেঞ্চারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৯ সালে উপজেলা অডিটোরিয়াম ভবন নির্মাণকাজ পান সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর ভাই নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন ও শেখ মনিরুজ্জামান। নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর কাজটি শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা ছিল। ক্ষমতার প্রভাবে শুরু থেকে সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ রয়েছে। ভবনটি জলাশয়ের মধ্যে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সঠিক পাইলিং না করায় ভবনটি ইতোমধ্যে পশ্চিম পাশে হেলে পড়েছে। ঠিকাদার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে গেলে দেয়া হতো হুমকি-ধমকি। এ দিকে দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত থাকায় মাদক সেবন ও বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যক্রম চলছে এ অসমাপ্ত অডিটোরিয়াম ভবনে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগের যেসব অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সেসব কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তদন্ত শেষে কাজগুলো দ্রুত শেষ করা হবে।

দুর্নীতির কারণে দেশে ঠিকমতো উন্নয়নকাজ না হওয়ার নজির ভূরি ভূরি। এ কারণে মাঝে মধ্যে পত্রিকায় দেখা যায়, কাজ না করে ঠিকাদার লাপাত্তা। একই ঘটনা ঘটেছে পিরোজপুরে। দুর্নীতিবাজ লোক কিভাবে নিয়োগ পান ঠিকাদার হিসেবে, এটা জনমনে প্রশ্ন। এলাকাবাসীর মতো আমাদের প্রত্যাশা, উল্লিখিত অডিটোরিয়াম ভবন যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা হোক। সেই সাথে এই দুর্নীতির সাথে যারা জড়িত; তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেবে সরকার।