বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের নাগালে নেই স্বাস্থ্যকর খাবার

দৈনিক স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় খরচ দাঁড়ায় মার্কিন চার ডলার আটাশ সেন্টের সমান। অথচ চরম দারিদ্র্যসীমা তিন ডলার। সরকারের ভুল নীতি আর মার্কিন প্রভাবাধীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে শস্য ও চাল-গমের ওপর ভর্তুকি দেওয়া হলেও শাকসবজি, ফল বা দুধের দাম থেকে যায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ব্রিটেনের ইংরেজি দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কিনে খাওয়ার সামর্থ্য রাখে না। ফলে খাদ্যের আকাশছোঁয়া দাম কমাতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই আশঙ্কাজনক তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় দুই শত ৬৯ কোটি মানুষ পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাবার কিনতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা দূর করার বৈশ্বিক লক্ষ্য পূরণ করা ভীষণ কঠিন হয়ে পড়বে।

২০২৫ সালে টানা তিন বছরের মতো বৈশ্বিক ক্ষুধার হার কিছুটা কমেছে। কিন্তু খাবারের দাম এতই বেশি যে বহু মানুষের জন্য তা বড় বড় বাধা তৈরি করছে। প্রতিবেদনে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো জানান, দৈনিক স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় খরচ দাঁড়ায় মার্কিন চার ডলার আটাশ সেন্টের সমান। অথচ চরম দারিদ্র্যসীমা তিন ডলার। সরকারের ভুল নীতি আর মার্কিন প্রভাবাধীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে শস্য ও চাল-গমের ওপর ভর্তুকি দেওয়া হলেও শাকসবজি, ফল বা দুধের দাম থেকে যায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

পশ্চিমা নীতি ও বাজারের এই বৈষম্যের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ফলস্বরূপ দেখা দিচ্ছে স্থূলতা, ক্যানসার ও বহুমূত্র রোগের মতো মারাত্মক ব্যাধি। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন আর সহায়তার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশেষ করে আফ্রিকায় ৬৬ শতাংশের বেশি মানুষ পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারছে না। বর্তমানে এশিয়াকে ছাড়িয়ে আফ্রিকাতেই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক তৎপরতার কারণে নৌপথে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব আগামী বছরগুলোতে আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।