ইউরোপের বুকে মুসলিম নিধনের ৩১ বছর: স্রেব্রেনিৎসায় গণহত্যা দিবস পালিত

স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সংঘটিত সবচেয়ে বড় গণহত্যা এবং আধুনিক ইউরোপে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় একক গণহত্যা।

গণহত্যায় শহীদদের গোরস্তান
গণহত্যায় শহীদদের গোরস্তান |সংগৃহীত

স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার ৩১তম বার্ষিকীতে বেঁচে যাওয়া স্বজন ও বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পোটোচারি মেমোরিয়াল সেন্টারে এক হৃদয়স্পর্শী শোকসভা হাজারো শোকার্ত মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে শনাক্ত হওয়া হত্যাযজ্ঞে শহীদ আরও ১০ জনের দেহাবশেষ দাফন করা হয়েছে।

স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সংঘটিত সবচেয়ে বড় গণহত্যা এবং আধুনিক ইউরোপে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় একক গণহত্যা। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু শনিবার (১১ জুলাই) জানিয়েছে, প্রতি বছরের ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত এই যৌথ দাফন অনুষ্ঠানটি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার অন্যতম এক গম্ভীর স্মরণসভা। এবার দাফন করা শহীদদের মধ্যে ২০ বছরের তরুণ সেনাদ জুসিচ যেমন আছেন, তেমনি আছেন ৫৬ বছরের রামো দাউতোভিচ। এছাড়া অন্য শহীদদের দেহাবশেষ ১৯৯৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিভিন্ন গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে এই মেমোরিয়ালে দাফনকৃত মরদেহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬,৭৮২ জনে। স্বজনদের অনুরোধে আরও ২৫০ জনকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে এবং এখনো ১,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সংহতি ও কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্সি চেয়ারম্যান ডেনিস বেচিরোভিচ বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের অতীতের সত্য রক্ষা করতে না পারি, তবে আমাদের কোনো বর্তমান বা ভবিষ্যৎ থাকবে না।’ অন্যদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান তাঁর বার্তায় এই গণহত্যাকে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় বলে নিন্দা জানান এবং গাজার মানবিক বিপর্যয়কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো স্রেব্রেনিৎসা থেকে শিক্ষা নেয়নি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও অন্যান্য বিশ্ব নেতারাও একে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ১৯৯৩ সালে জাতিসঙ্ঘ স্রেব্রেনিৎসাকে ‘নিরাপদ এলাকা’ ঘোষণা করলেও ১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই ডাচ জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতিতেই বসনিয়ান সার্ব বাহিনী ৮,০০০-এর বেশি বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালককে হত্যা করে। ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক আদালত একে গণহত্যা বলে রায় দেন এবং দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ২০২৪ সালে গৃহীত প্রস্তাবের পর থেকে এটি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক স্মরণ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।