রয়টার্স

রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন, বেইজিং বলছে ‘ভিত্তিহীন’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীনে রুশ সেনাদের গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল এবং এতে দু’দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন। তবে চীন ও রাশিয়া এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
চীন রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে
চীন রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে |সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই চীনে রুশ বাহিনীর গোপন সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়টি রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায় থেকে সরাসরি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। গত বছর অনুষ্ঠিত এই গোপন প্রশিক্ষণে দু’দেশের অন্তত চারজন জেনারেল সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

বুধবার (১ জুলাই) ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং হাতে আসা গোপন নথিপত্রে বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসভের জারি করা একটি অভ্যন্তরীণ ডিক্রির ভিত্তিতে রুশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। বেইজিংয়ের একটি সামরিক ঘাঁটিতে গত নভেম্বরে তিন সপ্তাহের এই বিশেষ প্রশিক্ষণটি ছিল মূলত রেডিলজিক্যাল, কেমিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল যুদ্ধ প্রতিরক্ষা বিষয়ক।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রুশ সেনাদের চীনা প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে পারমাণবিক চুল্লির মডেল দেখা এবং কেমিক্যাল ও রেডিয়েশন রিকনসেন্স-সংক্রান্ত পাঠ নেয়ার ছবিও রয়েছে।

ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলছেন, এত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে যে মস্কো ও বেইজিং এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। গত নভেম্বরে প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে চীন এই প্রশিক্ষণ দেয়, যাদের অনেকে পরবর্তীতে ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস গত ১৫ জুন নিশ্চিত করেছেন, ব্রাসেলস নিজস্ব সূত্রে এই প্রশিক্ষণের সত্যতা সম্পর্কে অবহিত হয়েছে এবং এর প্রভাব মূল্যায়ন করছে।

এদিকে, চীন ও রাশিয়া এই প্রতিবেদনকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য বলে দাবি করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন সঙ্কটে তাদের অবস্থান বরাবরই নিরপেক্ষ এবং তারা শান্তির মধ্যস্থতাকারী।

অন্যদিকে রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান আন্দ্রে কার্তাপোলভ একে ‘পুরোপুরি বোকামি’ বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, চীনের কাছ থেকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নতুন কিছু শেখার নেই। ইউক্রেনে দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে রাশিয়ার, যেখানে চীনের কয়েক দশকে কোনো যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা নেই।

তবে রাশিয়ার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে চীনের উন্নত সরঞ্জাম ও সিমুলেটরের প্রশংসা করা হলেও তাদের যুদ্ধাভিজ্ঞতার অভাবের কথা উল্লেখ রয়েছে।

সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া সামরিক কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তালিকা নথিতে পাওয়া গেছে। এতে রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রাশিয়ার ল্যান্ড ফোর্সের ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ কর্নেল জেনারেল রুস্তম মুরাদোভ। এছাড়া পিএলএ-এর মিলিটারি অ্যাকাডেমি অব রেডিলজিক্যাল, কেমিক্যাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল ডিফেন্সের প্রধান চীনা মেজর জেনারেল লি জিনসুন এবং রুশ মেজর জেনারেল ভিটালি গেরাসিমভ এতে অংশ নেন। গোপন চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন রুশ মেজর জেনারেল রুস্তম খুসাইনভ এবং চীনের সিনিয়র কর্নেল সুন দায়ুন। এই ঘটনার পর চীনের সাথে কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্ক রাখার চেয়ে, রাশিয়ার যুদ্ধে বেইজিংয়ের সহায়তার বিষয়টিকে কঠোরভাবে দেখার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতর চাপ বাড়ছে।