ফ্লোটিলার ‘অপহৃত’ সদস্যের মুক্তি দাবি স্পেনের

গাজা অভিমুখে যাওয়া ত্রাণবাহী নৌবহর বা ফ্লোটিলায় হামলা চালিয়ে এক স্পেনীয় নাগরিককে ধরে নিয়ে গেছে ইসরাইল। এই ঘটনাকে শুধু ‘অপহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে স্পেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ফ্লোটিলার অপহৃত দুই সদস্য
ফ্লোটিলার অপহৃত দুই সদস্য |সংগৃহীত

গাজা অভিমুখে যাওয়া ত্রাণবাহী নৌবহর বা ফ্লোটিলায় হামলা চালিয়ে এক স্পেনীয় নাগরিককে ধরে নিয়ে গেছে ইসরাইল। এই ঘটনাকে শুধু ‘অপহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে স্পেন।

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, সাইফ আবুকেশেক নামে ওই মানবাধিকার কর্মীকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।

মূলত গ্রিস উপকূলের আন্তর্জাতিক পানিসীমায় এই তান্ডব চালায় ইসরাইলি বাহিনী। সেখান থেকেই ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত স্পেনীয়-সুইডিশ নাগরিক সাইফকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই অভিযানে ইসরাইলকে যথারীতি মদত দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটনের দাবি, আটক হওয়া ব্যক্তিরা হামাসের সাথে যুক্ত, যদিও স্পেন এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

আলবারেস স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরাইল এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক পানিসীমায় থাকাকালীন ড্রোন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাজামুখী ত্রাণবাহী ২২টি নৌযানে হামলা চালায় ইসরাইলি নৌবাহিনী। এতে কয়েকশ ত্রাণকর্মী আটকা পড়েন এবং অনেককে গ্রিসে পাঠিয়ে দেয়া হলেও সাইফ ও ব্রাজিলের নাগরিক থিয়াগো আভিলাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ইসরাইলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ইসরাইলের জলদস্যুসুলভ আচরণে ক্ষুব্ধ বিশ্ব।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সরাসরি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, স্পেন তার নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে জানে এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর।

এদিকে গ্রিসে নিযুক্ত স্পেনের কনসুল জানিয়েছেন, ইসরাইলি হামলায় আহত অনেক কর্মীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আটক হওয়া মানবাধিকার কর্মীদের ওপর চালানো হয়েছে অমানবিক নির্যাতন।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরাইলি সামরিক জাহাজে সাইফকে মারাত্মক শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা আদাহলা জানিয়েছে, সাইফ ও থিয়াগোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাত-পা বেঁধে এবং চোখ ঢেকে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছিল। এমনকি থিয়াগোকে এতোটাই মারধর করা হয়েছে যে তিনি দু’বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে তারা শিকমা কারাগারে বন্দী আছেন এবং এর প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই পুরো দমন-পীড়নকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও তুরস্ক একে স্রেফ ‘জলদস্যুগিরি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা