ইউক্রেন-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ১৪

ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি হামলায় রোববার (২ আগস্ট) উভয় দেশে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা জানায়, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় নয়জন এবং রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে পাঁচজন নিহত হন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান
ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান |সংগৃহীত

ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি হামলায় রোববার (২ আগস্ট) উভয় দেশে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা জানায়, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় নয়জন এবং রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে পাঁচজন নিহত হন।

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে মস্কো ও কিয়েভ উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার পরিধি ও তীব্রতা বাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এ বছর এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে, যেগুলো প্রতিহত করা কঠিন। এতে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অন্যদিকে, মস্কোকে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় বসতে চাপ দিতে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা ও খুচরা পণ্যের গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

রোববার দিনের শুরুতে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি খেলার মাঠের কাছে থাকা ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে বলে অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেকজান্ডার শুভায়েভ জানান।

তিনি বলেন, ‘১৩ বছর বয়সী মেয়েটি গুরুতর আহত হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আঘাত জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুতর ছিল।’

এদিকে, কাজাখস্তান সীমান্তবর্তী রাশিয়ার সারাতোভ অঞ্চলে পৃথক এক ড্রোন হামলায় দু’জন নিহত হন। এছাড়া রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি গাড়িতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আরো তিনজন নিহত হন। অঞ্চলটি যুদ্ধের সম্মুখসার থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে।

অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ওলগা আব্রামোভা বলেন, ‘এই ঘটনা অর্থহীনতার দিক থেকে ভয়াবহ। নিহতরা কোনোভাবেই সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে দু’জন নিহত হন। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলে কমপক্ষে একজন করে নিহত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ডাকসেবা প্রতিষ্ঠান নোভা পোশতা জানায়, উত্তরাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার পৃথক এক হামলায় একটি ডাক পরিবহন টার্মিনাল ধ্বংস হয়। এতে এক ডাককর্মী নিহত হন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা আলোচনা কার্যত স্থগিত হয়ে আছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে এই আলোচনা আর এগোয়নি।

তবে মস্কো ও কিয়েভ- উভয় পক্ষই বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্র: বাসস