ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহে ফ্রান্সের হাসপাতাল ও ফিউনারেল হোম বা লাশ সংরক্ষণাগারগুলো হিমশিম খাচ্ছে। প্যারিসে গত শুক্রবারই একদিনে রেকর্ড ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তীব্র গরমে ফ্রান্সের রাজধানী এবং এর আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের ব্যস্ততা স্বাভাবিকের চেয়ে ৮০ শতাংশ বেড়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তির হার বেড়েছে ৩৬ শতাংশ।
চিকিৎসকেরা কমপক্ষে ৩০টি হার্ট অ্যাটাকের রোগী পেয়েছেন, যার মধ্যে হাইপারথার্মিয়ায় আক্রান্ত এক রোগীর শরীরের তাপমাত্রা রেকর্ড ৪৩ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে উঠেছিল।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে প্যারিসের ফিউনারেল হোমগুলো তাদের ধারণক্ষমতার শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে। মৃতদের স্বজনদের এখন লাশ অন্য অঞ্চলের ফিউনারেল হোমে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।
দেশটির গ্রেটার প্যারিস অঞ্চলের একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান জানান, এক সপ্তাহের তীব্র তাপমাত্রার পর হঠাৎ করেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গেছে। কেবল এক রাতেই সেখানে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট সতর্ক করে বলেছেন, এই দাবদাহে অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২২ শতাংশ বেশি।
এছাড়া গরমের কারণে গত ১৮ জুন থেকে নদী ও সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে কমপক্ষে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনজ।
ফ্রান্স ছাড়িয়ে এই তাপপ্রবাহ এখন পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। জার্মানি ও ইতালিতেও রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ডেনমার্কে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রেও দাবদাহ আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে পানিতে ডুবে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু সঙ্কটের কারণেই এই তীব্র তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র গরমে জার্মানি ও ফ্রান্সে রেললাইন ও বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হওয়ায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জায়গায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এই পরিস্থিতিকে কিছুটা হালকাভাবে নিয়ে দাবি করেছেন, গরমের চেয়ে শীতকালেই বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকেরা অবশ্য বলছেন, এই বিপর্যয় সহজে কাটবে না এবং হাসপাতালের ওপর চাপ আরো কয়েকদিন বজায় থাকবে।
সূত্র: আরটি, দ্য গার্ডিয়ান


