ইইউতে অভিবাসীর সংখ্যা রেকর্ড ৬.৪২ কোটি

ইইউতে অভিবাসীর সংখ্যা রেকর্ড ৬.৪২ কোটিতে পৌঁছেছে, যেখানে জার্মানি ও স্পেন সবচেয়ে বেশি অভিবাসী গ্রহণ করছে। এই প্রবণতা ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও নীতিগত চাপ বাড়াচ্ছে।

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, প্যারিস (ফ্রান্স)
সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বসবাসরত অভিবাসীদের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস অন মাইগ্রেশন’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল নাগাদ ইইউ ব্লকে মোট অভিবাসীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি ৪২ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখের বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি। ইউরোস্ট্যাট এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১০ সাল থেকে ইইউতে অভিবাসীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে- তখন এই সংখ্যা ছিল প্রায় চার কোটি।

ইউরোপে অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে জার্মানি এখনো শীর্ষে রয়েছে। দেশটিতে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ বিদেশে জন্ম নেয়া মানুষ বসবাস করেন, যাদের মধ্যে ৭২ শতাংশই কর্মক্ষম বয়সের। শ্রমবাজার ও জনসংখ্যাগত চাহিদার কারণে জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে স্পেনে সবচেয়ে দ্রুত অভিবাসী বৃদ্ধির হার দেখা গেছে। গত বছরে প্রায় সাত লাখ নতুন অভিবাসী যুক্ত হওয়ায় দেশটিতে মোট অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে ৯৫ লাখে পৌঁছেছে। গবেষণার সহলেখক তোমাসো ফ্রাত্তিনি বলেন, ‘জার্মানি ইউরোপে অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবেই রয়ে গেছে, মোট সংখ্যা এবং জনসংখ্যার অনুপাতে- উভয় ক্ষেত্রেই।’

প্রতিবেদনটি ইইউর অভ্যন্তরে অভিবাসনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য তুলে ধরেছে। লুক্সেমবার্গ, মাল্টা ও সাইপ্রাসের মতো ছোট দেশগুলোতে মোট জনসংখ্যার তুলনায় অভিবাসীর হার অনেক বেশি।

আশ্রয় প্রার্থনার আবেদনও কয়েকটি দেশে কেন্দ্রীভূত। স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানি মিলেই ইইউতে জমা পড়া প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করে। শরণার্থী সুরক্ষার ক্ষেত্রেও জার্মানি শীর্ষে রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৭ লাখ মানুষ আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন।

অভিবাসনের এই প্রবণতা ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ফ্রান্সের ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালি দলের এমপি ম্যাথিয়াস রেনো সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন, ইইউতে প্রথম প্রজন্মের অভিবাসীর সংখ্যা এখন ৬৪ মিলিয়ন, যা ২০১০ সালের তুলনায় ২৫ মিলিয়ন বেশি এবং ইইউ জনসংখ্যার প্রায় এক-সপ্তমাংশ।

এদিকে স্পেন সরকার অবৈধভাবে বসবাসরত প্রায় পাঁচ লাখ বিদেশীকে বৈধতা দেয়ার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

সরকারের দাবি, শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণ এবং সামাজিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য আনতেই এই পদক্ষেপ।

তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের ডানপন্থী দল লে রেপ্যুব্লিক্যাঁর নেতা ব্রুনো রেতাইয়ো। এলসিআই টেলিভিশনে তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত ‘ইউরোপীয় চেতনার পরিপন্থী’ এবং এমন নীতি অব্যাহত থাকলে তা ইউরোপে অভিবাসন চাপ আরো বাড়াতে পারে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, শ্রমবাজারের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক সঙ্কট মিলিয়ে অভিবাসন ইস্যু আগামী বছরগুলোতেও ইউরোপীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে।