ভারতে ওষুধের বদলে ফরমালিনের ইনজেকশন দেয়ায় শিশুর মৃত্যু

ভারতের এইমস হাসপাতালে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত এক শিশুকে ওষুধের বদলে বিষাক্ত ফরমালিন ইনজেকশন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নার্সের বিরুদ্ধে। এই ভুল চিকিৎসায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভারতের এইমস হাসপাতাল
ভারতের এইমস হাসপাতাল |সংগৃহীত

ভারতের ভোপাল অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা এইমস হাসপাতালে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত এক শিশুকে ওষুধের বদলে বিষাক্ত ফরমালিন ইনজেকশন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নার্সের বিরুদ্ধে। এই ভুল চিকিৎসায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নার্সদের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

যে রাসায়নিকটি শিশুটির শরীরে দেয়া হয়েছিল, তা মূলত বায়োপসি নমুনা, টিস্যু ও লাশ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। ফরমালিন জীবিত মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত।

নিহত শিশুটির নাম সার্থক যাদব। সে সাগর জেলার বিনা তহসিলের কৌর্জা গ্রামের বাসিন্দা ছিল। গত ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভোপাল এইমসের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সে ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিল এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিল।

১৭ ডিসেম্বরের সকালে ঘটে এই প্রাণঘাতী ঘটনা। সার্থকের আইভি লাইনটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ডিউটিতে থাকা একজন নার্সিং কর্মকর্তা কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই ওয়ার্ডে পড়ে থাকা এবং ‘F’ লেখা একটি সিরিঞ্জ তুলে নেন। এরপর তিনি সেই সিরিঞ্জের ভেতরের তরল সার্থকের আইভির বোতলে ঢুকিয়ে দেন। সার্থকের বাবা সিদ্ধার্থ যাদব নার্সকে তিনবার বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি। নার্স উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, তিনি ডাক্তার নাকি সার্থকের বাবা ডাক্তার। এর কিছুক্ষণ পরই শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ইনজেকশন দেয়ার পরপরই ওয়ার্ডের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সার্থকের অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকলে তাকে পিআইসিইউতে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে সিপিআর দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সকাল পৌনে ৯টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

সার্থকের বাবার অভিযোগ, শিশুটি জ্ঞান হারানোর পর হাসপাতালের কর্মীরা আইভির বোতলটি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি সেটি ধরে রাখলেও পরে তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়।

ভোপাল এইমসের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে যে, সার্থকের মৃত্যুর সরাসরি কারণ ছিল শিরায় ফরমালিন প্রবেশ করানো। এই চরম অবহেলার জন্য তদন্ত কমিটি নার্সিং স্টাফদের দায়ী করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়োপসি নমুনার জন্য রাখা ফরমালিন একটি সিরিঞ্জে ভরে ওয়ার্ডে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। নার্সিং কর্মকর্তা মধুবলা শর্মার বিরুদ্ধে শিশুটিকে ওই রাসায়নিক দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর অন্য নার্সিং কর্মকর্তা অনুকা গুজরাটি ফরমালিন নিরাপদে না রাখার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন।

এই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বাগসেওয়ানি থানা পুলিশ দুই নার্সিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

থানা ইনচার্জ অমিত সোনি জানিয়েছেন, পুলিশ দুই নার্সকে খুঁজছে এবং এইমস কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই তাদের দু’জনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

মূলত ফরমালডিহাইড গ্যাসের জলীয় দ্রবণ ফরমালিন, যা চিকিৎসাগারে টিস্যু ও লাশ সংরক্ষণে ব্যবহৃত অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিষাক্ত রাসায়নিক।

সূত্র: এনডিটিভি