ভারতের আসামের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুত্ববাদী রাজনৈতিক চেতনাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে পুনরায় গঠিত হচ্চে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। সরকার গঠনের সময় যে বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে তা হলো, নতুন মন্ত্রিসভায় কোনো মুসলিম বিধায়ক বা মন্ত্রী থাকছেন না।
শুক্রবার (১৫ মে) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, এমন পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বহীনতা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক।
২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের মতো এবারো আসামের মন্ত্রিসভায় কোনো মুসলিম সদস্য থাকছেন না। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বার্তা বহন করছে।
আসামের জনসংখ্যা কাঠামো এই বিতর্ককে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৩৪.২২ শতাংশ মুসলিম। যা জনসংখ্যার প্রায় ১.০৭ কোটি। রাজ্যের ৩৪টি জেলার মধ্যে অন্তত ১১টি জেলায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
সাম্প্রতিক সময়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, এই হার বর্তমানে ৪০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতো বড় একটি জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও সরকারে তাদের প্রতিনিধিত্ব না থাকা একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।



