যদি আগামীকালই ভারত ও চীনের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যায়, তবে একপক্ষ আকাশে উড়িয়ে দিতে পারবে শয়ে শয়ে ‘স্টিলথ’ বা রাডার-ফাঁকি দেওয়া বা রাডারের কাছে অদৃশ্য যুদ্ধবিমান। আর অন্যপক্ষ? হয়তো একটা বিমানও আকাশে ওড়ানোর ক্ষমতা রাখবে না।
শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই নির্মম বাস্তব। চীনের সাথে ভারতের এই প্রযুক্তির আকাশপাতাল ব্যবধান এখন আর কেবল আলোচনার বিষয় নয়, এটি দিল্লির জন্য এক চরম ও জরুরি নিরাপত্তা সংকট। এনডিটিভি শুক্রবার (১৭ জুলাই) জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সাময়িকী ‘দ্য ওয়ার জোন’-এ প্রখ্যাত চীন-সামরিক গবেষক আন্দ্রেয়াস রুপব্রেখট একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, চীনের কাছে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০টি তাদের সবচেয়ে আধুনিক ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান রয়েছে।
যদি এই দাবি সত্যি হয়, তবে তা সাধারণ ধারণার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এর চেয়েও বড় ভয়ের বিষয় হলো, চীন পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল ও উন্নত এই যুদ্ধবিমান তৈরির গতি এতটাই বাড়িয়েছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
আর ভারতের জন্য এটি এক মহা বিপৎসংকেত। কারণ, বিপরীতে আজ এই মুহূর্তে দিল্লির বিমান বাহিনীর হ্যাঙ্গারে স্টিলথ যুদ্ধবিমানের সংখ্যাটি একদম শূন্য!
ইতিমধ্যে তিব্বতে ভারতের সীমানার কাছেই চিনের এই জে-২০ বিমান মোতায়েন করার খবর মিলেছে। আধুনিক যুদ্ধে এই স্টিলথ বিমানগুলোর কাজই হলো শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিয়ে আকাশসীমায় ঢুকে পড়া, প্রথম আঘাতেই শত্রুর বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া। এর মধ্য দিয়ে নিজেদের বাকি বিমান বাহিনীর জন্য পথ পরিষ্কার করা। ‘অপারেশন সিন্দুর’ ভারতকে এই শিক্ষাই দিয়েছিল যে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে আকাশপথের আধিপত্যই হবে আসল চাবিকাঠি।
অথচ চীনের এই ‘স্টিলথ বিপ্লব’-এর বিপরীতে ভারতের প্রস্তুতি হতাশাজনকভাবে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ বিমান ‘এএমসিএ’ (AMCA) যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে এখনো অন্তত এক দশক দেরি। রাশিয়ার তৈরি ‘সু-৫৭’ বিমানটি পুরোদস্তুর স্টিলথ বিমান নয়, আবার ভারতের সীমিত সম্পদের সেরা ব্যবহারও এটি হতে পারে না। তবুও জরুরি প্রয়োজনে আমদানি করার মতো এই একটাই পথ ভারতের সামনে খোলা আছে। এছাড়া ইউরোপের ষষ্ঠ প্রজন্মের বিমান তৈরিতে যোগ দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলেও তা ভবিষ্যতের কথা। আগামীকালের যুদ্ধের জন্য নয়। সত্যি বলতে, ভারতের নিজস্ব বিমান যখন আকাশে উড়বে, ততদিনে চীনের হ্যাঙ্গারে হ্যাঙ্গারে হাজারখানেক উন্নত জে-২০ যুদ্ধবিমান চলে আসবে।
অবশ্য এর মানে এই নয় যে ভারতের কোনো প্রতিরক্ষা নেই। ভারত স্টিলথ বিমান ধরার মতো উন্নত রাডার, সেন্সর এবং বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থার পেছনে লগ্নি করছে। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে সংখ্যার একটা বড় ভূমিকা থাকে। আর সেই হিসেবে ভারতের অবস্থান এখনো শূন্যের ঘরে।
এটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর ব্যর্থতা নয়, বরং দশকের পর দশক ধরে সিদ্ধান্তহীনতা, পরিকল্পনার অভাব এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরিতে দেশের ভেতরের দুর্বল শিল্পকাঠামোর ফল। ফলে চীনের সাথে প্রযুক্তি ও সক্ষমতার যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা মেটানোর চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে চীন এগিয়ে চলেছে। ভারতের সামনে এখন আর ভাববার সময় নেই, দেয়ালের পিঠ ঠেকে গেছে।



