নেপালে বার্ড ফ্লুর প্রকোপ বাড়ায় একমাত্র চিড়িয়াখানা বন্ধ

নেপালে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৯৬ হাজারের বেশি হাঁস-মুরগিকে নিধন করা হয়েছে। একইসাথে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশটির একমাত্র চিড়িয়াখানা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নেপালে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ বাড়ছে
নেপালে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ বাড়ছে |সংগৃহীত

নেপালে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৯৬ হাজারের বেশি হাঁস-মুরগিকে নিধন করা হয়েছে। একইসাথে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশটির একমাত্র চিড়িয়াখানা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

হিমালয়ঘেরা নেপালে আগের বছরগুলোতেও বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। তবে চলতি বছরে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় ১৮ মার্চ।

এরপর থেকে সরকারি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ব্যাপকভাবে মুরগি ও অন্যান্য গৃহপালিত পাখি নিধন করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে ১০ লাখেরও বেশি ডিম।

প্রাণিসম্পদ সেবা বিভাগের মহাপরিচালক উমেশ দাহাল বলেন, কাঠমান্ডু উপত্যকার তিনটিসহ দেশের ১১টি জেলায় বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কাঠমান্ডু উপত্যকাতেই পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর।

তিনি আরো বলেন, কর্তৃপক্ষের ধারণা, কাকের মাধ্যমে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

দাহাল বলেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ সংক্রমণে কাকের মৃত্যুর ঘটনা পাওয়া গেছে। বন্য পরিবেশে বসবাস করায় তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন।’

নেপালে প্রথমবার বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে।

গুয়ানিলেট-বাইন্ডিং প্রোটিন পাঁচ ধরনের ভাইরাস বিশ্বজুড়ে হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির মধ্যে গুরুতর রোগ ও উচ্চ মৃত্যুহারের জন্য দায়ী। তবে নেপালে এখন পর্যন্ত বার্ড ফ্লুতে কোনো মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

রাজধানী কাঠমান্ডুর চিড়িয়াখানাটি চলতি জুন মাসের শুরুতে বন্ধ করে দেয়া হয়। কোভিড-১৯ মহামারির পর এই প্রথম এটি বন্ধ করা হলো।

চিড়িয়াখানার মুখপাত্র গণেশ কৈরালা বলেন, ‘রোগটি বেশ কয়েকটি পাখি ও প্রাণী সংক্রমিত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে সিভেট বিড়াল এবং পেঁচা, শকুন ও কবুতরসহ কয়েক ধরনের পাখি মারা গেছে।

মুখপাত্র বলেন, ‘ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য চিড়িয়াখানাটি বন্ধ থাকবে।’

সূত্র: বাসস