আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান ও ইরানের আলোচনা

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসহাক দার ও আব্বাস আরাগচি
ইসহাক দার ও আব্বাস আরাগচি |সংগৃহীত

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

রোববার (৩ মে) গভীর রাতে ফোনালাপে আরাগচি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকা ও আন্তরিক মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন।

এই আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল পাকিস্তানের শান্তি প্রচেষ্টা এবং আরাগচির দেয়া নতুন শান্তি প্রস্তাবের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া।

ইসহাক দার জানিয়েছেন, আলোচনার টেবিল আর কূটনীতিই হলো স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের একমাত্র পথ।

এই আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে তেহরানের পক্ষ থেকে দেয়া ১৪ দফার এক নতুন শান্তি প্রস্তাবকে ঘিরে। ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের এই প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা এখন তেহরান পর্যালোচনা করছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাথে তাদের আলোচনা বেশ ইতিবাচক দিকে মোড় নিচ্ছে, যা সবার জন্যই ভালো ফল বয়ে আনতে পারে।

গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দুই দেশের আলোচনা একরকম থমকে ছিল। তবে এখন আরাগচির দেয়া এই প্রস্তাব নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের এই প্রস্তাবে এক মাসের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া অন্যায্য নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া এবং ইরান ও লেবাননে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানো।

এই প্রস্তাব তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে, যাতে ৩০ দিনের মধ্যে পুরো যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাপ্তি ঘটে। এরমধ্যে একটি বড় শর্ত হলো- ইসরাইলসহ কোনো পক্ষই আর কারো ওপর হামলা করবে না বলে অঙ্গীকার করবে।

প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ সরাতে হবে এবং বিনিময়ে সমুদ্রের মাইন সরানোর দায়িত্ব নেবে তেহরান। পরবর্তী ধাপে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নির্দিষ্ট মাত্রায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিলেও ইরান জানিয়েছে যে, তাদের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস বা পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার কোনো প্রশ্নই আসে না। এর বদলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবশ্যই ইরান ও তার মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ রাখতে হবে। একইসাথে ইরানের আটকে রাখা অর্থ বা তহবিলগুলোও ধাপে ধাপে ছেড়ে দিতে হবে।

সবশেষ ধাপে আরব দেশগুলোর সাথে কৌশলগত সংলাপ এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছে ইরান। পুরো এই প্রক্রিয়ায় জাতিসঙ্ঘ বা আন্তর্জাতিক মহলের চেয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর সদিচ্ছাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ডন