পাকিস্তানে সেনাবাহী ট্রেনে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২৪

হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) মজিদ ব্রিগেড। সংগঠনটির দাবি, কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাদের বহনকারী বগিগুলোকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সেনা সদস্য বহনকারী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনে আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) কোয়েটার চমন ফাটকের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনটির কয়েকটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। রেললাইনের পাশের কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রেললাইনের পাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনার পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলোতে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Pak-Train-2

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রেনটিতে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য ছিলেন। সে কারণেই ট্রেনটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) মজিদ ব্রিগেড। সংগঠনটির দাবি, কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাদের বহনকারী বগিগুলোকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।

কোয়েটা পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে একটি বগি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি কামরায় আগুন ধরে যায়। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Pak-Train-3

জাফর এক্সপ্রেস পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ার পর্যন্ত চলাচল করে। গত দুই বছরে ট্রেনটি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে বালোচ বিদ্রোহীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

গত বছরের অক্টোবরে সিন্ধু প্রদেশের সুলতানকোট এলাকায় জাফর এক্সপ্রেসে হামলার ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। নভেম্বরে আবারও ট্রেনটিতে হামলা হয়। এছাড়া গত বছরের মার্চে বালোচ বিদ্রোহীরা জাফর এক্সপ্রেসের যাত্রীদের জিম্মি করেছিল। পরে সেনাবাহিনীর অভিযানে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ২৬ সেনাসদস্য ও ৩৩ বিদ্রোহী নিহত হন।

সূত্র : এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, রয়টার্স, এনডিটিভি