ঘূর্ণিঝড় ডলফিন

সাংহাই উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ, সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডলফিনের কারণে উত্তাল সাগর
ডলফিনের কারণে উত্তাল সাগর |সংগৃহীত

ভয়াবহ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় 'ডলফিন' আঘাত হানার আশঙ্কায় চীনে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঝড়ের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দেশটির প্রধান আর্থিক কেন্দ্র সাংহাই ও আশপাশের এলাকা থেকে সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। একই সাথে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে আকাশপথ, বাতিল করা হয়েছে ১,৩০০টিরও বেশি উড়োজাহাজ ফ্লাইট।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্স রোববার (৯ আগস্ট) জানিয়েছে, এর আগে জাপান ও তাইওয়ানে তাণ্ডব চালানোর পর ঝড়টি এখন ধ্বংসাত্মক শক্তি নিয়ে চীনের উপকূলে আছড়ে পড়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

১৬২ কিমি বেগে আসছে ঝড়

রোববার সকালে ঘূর্ণিঝড় ডলফিনের সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬২ কিলোমিটার। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি ক্যাটাগরি-২ মাত্রার ঝড়, যা গাছপালা উপড়ে ফেলাসহ ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। আগামী কয়েক দিনে এসব অঞ্চলে ২০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত তুমুল বৃষ্টি হতে পারে।

রোববার শেষ রাতের দিকে ঝড়টি চীনের ঝেজিয়াং এবং ফুঝিয়ান প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে সরাসরি আঘাত হানবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যা ও ঝেজিয়াং এলাকায় পাহাড়ি ধসের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আকাশ ও নৌপথ বন্ধ, ব্যাপক স্থানান্তর

সতর্কতামূলক জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে সাংহাইয়ের হংছিয়াও ও পুডং প্রধান দুটি বিমানবন্দর রোববার প্রায় ৬০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর প্রভাব পড়েছে তাইওয়ানেও, তাদের কয়েকটি এয়ারলাইন্স চীনে রোববারের ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে।

ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝৌ শহর থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজার এবং সাংহাইয়ের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে—সব মিলিয়ে সরিয়ে নেয়া মানুষের সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। ঝেজিয়াং প্রশাসন ফেরি ও প্রমোদতরীসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে।

জাপান ও তাইওয়ানে আগের তাণ্ডব

চীনে আঘাত হানার আগেই ঝড়টি জাপানের ওকিনাওয়ায় তাণ্ডব চালালে ৬ জনকে আহত এবং ৫০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। এছাড়া, এই ঝড়ের কারণে শনিবার তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেইসহ উত্তরাঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে ।