বাংলাদেশের সাথে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেয়ার কথা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার (১১ মে) হাওড়ায় রাজ্য সচিবালয়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ ঘোষণা দেন বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকারের প্রধান।
ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে এমনটাই জানানো হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, এদিনের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেগুলো হলো :
১. যাদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেই ৩২১ জন নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নিলো রাজ্য সরকার।
২. রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গেছে। তাই সীমান্ত রক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজন। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার জন্য জমি হস্তান্তর করা হবে।
৩. ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’, ‘আয়ুষ্মান ভারত’র মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সাথে যুক্ত হলো রাজ্য।
৪. রাজ্যের আইপিএস, আইএএসরা কেন্দ্রের কোনো ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে পারতেন না। এবার থেকে চাইলে তারা পারবেন।
৫. আজ থেকে রাজ্যে লাগু ভারতীয় ন্যায় সংহিতা। এতদিন অসাংবিধানিকভাবে আইপিসি লাগু ছিল পশ্চিমবঙ্গে।
৬. সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীর বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বাড়ানো হলো।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো আগের সরকারের সামাজিক প্রকল্প কি বন্ধ হয়ে যাবে?— বাংলায় রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তবে নবান্নে প্রথম মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের পর সে শঙ্কা দূর করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হবে না।’
“তবে প্রতিক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা হবে। কোনো মৃত ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। এছাড়া কোনো ‘অভারতীয়’কেও সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা দেয়া হবে না।”
মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিল দু’টি জনমুখী প্রকল্প। একটি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং দ্বিতীয়টি স্বাস্থ্যসাথী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় প্রত্যেক নারী প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে পেতেন। তফসিলী জাতি ও উপজাতির নারী পান ১ হাজার ৭০০ টাকা। এছাড়া স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৫ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবিমা চালু ছিল।
প্রথম মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আজ থেকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ।



