মিয়ানমারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেবল প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ধ্বংসই ডেকে আনেনি, বরং দেশটির জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন এক মাত্রা যুক্ত করেছে। সামরিক জান্তা সরকারের সহায়তা চাওয়ার বিরল উদ্যোগ, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক চাপ- সবকিছুই দেশটিকে এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক জটিলতার দিকে নিয়ে গেছে। ভূমিকম্প-পরবর্তী এই সংকটে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব এখন আরো বেশি করে সামনে এসেছে।
গত ২৮ মার্চ ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপির মতে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৭০ শতাংশ জান্তা বা রাজ্য প্রশাসন পরিষদের (এসএসি) নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি ৩০ শতাংশ প্রতিরোধ-অধিষ্ঠিত অঞ্চলের মধ্যে পড়ে।
ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা উপলব্ধি করে ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে সামরিক জান্তা শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক সহায়তার অনুরোধ করেন। জান্তা সরকারের জন্য এটি এক বিরল মুহূর্ত ছিল কারণ এই প্রথম তারা সংকট পরিচালনা করতে তাদের অক্ষমতা স্বীকার করে।
মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতি তাদের এক প্রতিবেদনে ভূমিকম্প ও মিয়ানমারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব তুলে ধরেছে।
ভূমিকম্পের পর জরুরি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলো আন্তর্জাতিক সাহায্য দ্রুত পৌঁছে দেয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। জান্তা সরকারও সাগাইং, মান্দালয় ও নেপিদোর মতো গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বেশিভাগ সাহায্য অভিযানের অনুমতি দেয়। তবে তারা জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) অধীনে প্রতিরোধ গোষ্ঠী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে সাহায্য প্রবেশে বাধা দেয়। সম্ভাব্য পিডিএফ অনুপ্রবেশের বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন জান্তা স্থানীয় সংস্থা ও স্বতন্ত্র দাতাদের স্বাধীনভাবে কাজ করা থেকে বিরত রাখে। কিছু ক্ষেত্রে তারা স্বেচ্ছাসেবকদের গ্রেফতার করে, সাহায্য সরবরাহ বাজেয়াপ্ত করে অথবা সংস্থাগুলোকে তাদের সাথে সহযোগিতা করতে বাধ্য করে।
এদিকে ভূমিকম্পের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় ঐক্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার প্রচেষ্টা সহজতর করার জন্য ২০ দিনের মানবিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। সামরিক জান্তাও তিন সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, যদিও এটি লোক দেখানো ছিল। এই ঘোষণাটি যে সময় দেয়া হয়েছিল সে সময় জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলন বিমসটেকে অংশ নেন। তার ব্যাংকক সফরের সাথে জান্তার মানবিক বিরতির ঘোষণাটি সুবিধাজনকভাবে মিলে যায়।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জান্তার বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া যায়। প্রতিরোধ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। পরের সপ্তাহে জান্তার ৬৩টি পৃথক হামলায় ৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা করা ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা দলসহ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।
ভূমিকম্প-পরবর্তী মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ান, প্রতিবেশী দেশগুলো ও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জোর দেয়। জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলো, যার মধ্যে স্থানীয় দলও রয়েছে, প্রতিরোধ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করে। কিছু প্রচেষ্টা সফল হলেও অধিকাংশই সফল হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ অঞ্চল তৈরির মাধ্যমে একটি টেকসই মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বর্তমান আসিয়ানের সভাপতি মালয়েশিয়া এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম একটি টেকসই মানবিক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য জান্তা নেতাকে ব্যাংককে আমন্ত্রণ জানান।
এছাড়াও তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সাহায্য পৌঁছে দেয়ার উপায়গুলো অনুসন্ধান করতে জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী মাহন উইন খাইং থানের সাথেও দেখা করেন। এ সময় তিনি সংঘাত বন্ধের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।
যদিও একটি টেকসই মানবিক বিরতির ধারণাটি প্রশংসনীয়, বিশেষ করে প্রাথমিক পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার আলোকে, বেশ কয়েকটি প্রশ্ন রয়েই যায়। আর তা হলো- কে এই ধরনের চুক্তি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগ করবে? যদি কোনো পক্ষ এর শর্তাবলী লঙ্ঘন করে তবে কী হবে? কে নিশ্চিত করবে যে বেসামরিক নাগরিকরা নির্যাতন, জোরপূর্বক স্থানান্তর ও সম্পত্তি দখল বা ধ্বংস থেকে সুরক্ষিত?
সাহায্য বিতরণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অবশ্যই বৈষম্যহীনতার নীতি ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এমনকি মানবিক বিরতির একতরফা ঘোষণার সাথে একটি স্পষ্ট আচরণবিধি ও রেফারেন্সের শর্তাবলীও থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ প্রক্রিয়া ও বিরোধ নিষ্পত্তি কাঠামোও অপরিহার্য। পাশাপাশি একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রয়োগ কৌশলও রয়েছে। এই সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ছাড়া প্রচেষ্টাটি জান্তার অভ্যাসগত লঙ্ঘন সম্পর্কে অমীমাংসিত অভিযোগের একটি সিরিজে রূপান্তরিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি হলো, জান্তা মানবিক বিরতির সুযোগ নিয়ে জাল নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। এর মাধ্যমে জান্তা সরকার তাদের বৈধতা তৈরি করার চেষ্টা করবে। বসন্ত বিপ্লব কখনই এই ধরণের ছলনা গ্রহণ করবে না, বিশেষ করে যখন দেশের অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ জান্তা হারিয়েছে। তাই মানবিক বিরতির ফলে উদ্ভূত স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া উচিত হবে না জান্তার।
মিয়ানমারে মানবিক সাহায্য জরুরিভাবে প্রয়োজন। কিন্তু তার জন্যে সামরিক একনায়কতন্ত্রের মূল কারণগুলোকেও উপেক্ষা করা যাবে না। এই মৌলিক বিষয়গুলোর সমাধান না করলে মানবসৃষ্ট উভয় হোক বা প্রাকৃতিক- তা মিয়ানমারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
মিয়ানমারের ভূমিকম্প রাজনৈতিক পটভূমিতে এর প্রভাব
নয়া দিগন্ত অনলাইন
মিয়ানমারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেবল প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ধ্বংসই ডেকে আনেনি, বরং দেশটির জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন এক মাত্রা যুক্ত করেছে। সামরিক জান্তা সরকারের সহায়তা চাওয়ার বিরল উদ্যোগ, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক চাপ- সবকিছুই দেশটিকে এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক জটিলতার দিকে নিয়ে গেছে। ভূমিকম্প-পরবর্তী এই সংকটে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব এখন আরো বেশি করে সামনে এসেছে।
গত ২৮ মার্চ ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপির মতে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৭০ শতাংশ জান্তা বা রাজ্য প্রশাসন পরিষদের (এসএসি) নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি ৩০ শতাংশ প্রতিরোধ-অধিষ্ঠিত অঞ্চলের মধ্যে পড়ে।
ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা উপলব্ধি করে ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে সামরিক জান্তা শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক সহায়তার অনুরোধ করেন। জান্তা সরকারের জন্য এটি এক বিরল মুহূর্ত ছিল কারণ এই প্রথম তারা সংকট পরিচালনা করতে তাদের অক্ষমতা স্বীকার করে।
মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতি তাদের এক প্রতিবেদনে ভূমিকম্প ও মিয়ানমারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব তুলে ধরেছে।
ভূমিকম্পের পর জরুরি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলো আন্তর্জাতিক সাহায্য দ্রুত পৌঁছে দেয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। জান্তা সরকারও সাগাইং, মান্দালয় ও নেপিদোর মতো গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বেশিভাগ সাহায্য অভিযানের অনুমতি দেয়। তবে তারা জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) অধীনে প্রতিরোধ গোষ্ঠী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে সাহায্য প্রবেশে বাধা দেয়। সম্ভাব্য পিডিএফ অনুপ্রবেশের বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন জান্তা স্থানীয় সংস্থা ও স্বতন্ত্র দাতাদের স্বাধীনভাবে কাজ করা থেকে বিরত রাখে। কিছু ক্ষেত্রে তারা স্বেচ্ছাসেবকদের গ্রেফতার করে, সাহায্য সরবরাহ বাজেয়াপ্ত করে অথবা সংস্থাগুলোকে তাদের সাথে সহযোগিতা করতে বাধ্য করে।
এদিকে ভূমিকম্পের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় ঐক্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার প্রচেষ্টা সহজতর করার জন্য ২০ দিনের মানবিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। সামরিক জান্তাও তিন সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, যদিও এটি লোক দেখানো ছিল। এই ঘোষণাটি যে সময় দেয়া হয়েছিল সে সময় জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলন বিমসটেকে অংশ নেন। তার ব্যাংকক সফরের সাথে জান্তার মানবিক বিরতির ঘোষণাটি সুবিধাজনকভাবে মিলে যায়।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জান্তার বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া যায়। প্রতিরোধ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। পরের সপ্তাহে জান্তার ৬৩টি পৃথক হামলায় ৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা করা ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা দলসহ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।
ভূমিকম্প-পরবর্তী মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ান, প্রতিবেশী দেশগুলো ও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জোর দেয়। জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলো, যার মধ্যে স্থানীয় দলও রয়েছে, প্রতিরোধ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করে। কিছু প্রচেষ্টা সফল হলেও অধিকাংশই সফল হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ অঞ্চল তৈরির মাধ্যমে একটি টেকসই মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বর্তমান আসিয়ানের সভাপতি মালয়েশিয়া এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম একটি টেকসই মানবিক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য জান্তা নেতাকে ব্যাংককে আমন্ত্রণ জানান।
এছাড়াও তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সাহায্য পৌঁছে দেয়ার উপায়গুলো অনুসন্ধান করতে জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী মাহন উইন খাইং থানের সাথেও দেখা করেন। এ সময় তিনি সংঘাত বন্ধের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।
যদিও একটি টেকসই মানবিক বিরতির ধারণাটি প্রশংসনীয়, বিশেষ করে প্রাথমিক পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার আলোকে, বেশ কয়েকটি প্রশ্ন রয়েই যায়। আর তা হলো- কে এই ধরনের চুক্তি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগ করবে? যদি কোনো পক্ষ এর শর্তাবলী লঙ্ঘন করে তবে কী হবে? কে নিশ্চিত করবে যে বেসামরিক নাগরিকরা নির্যাতন, জোরপূর্বক স্থানান্তর ও সম্পত্তি দখল বা ধ্বংস থেকে সুরক্ষিত?
সাহায্য বিতরণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অবশ্যই বৈষম্যহীনতার নীতি ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এমনকি মানবিক বিরতির একতরফা ঘোষণার সাথে একটি স্পষ্ট আচরণবিধি ও রেফারেন্সের শর্তাবলীও থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ প্রক্রিয়া ও বিরোধ নিষ্পত্তি কাঠামোও অপরিহার্য। পাশাপাশি একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রয়োগ কৌশলও রয়েছে। এই সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ছাড়া প্রচেষ্টাটি জান্তার অভ্যাসগত লঙ্ঘন সম্পর্কে অমীমাংসিত অভিযোগের একটি সিরিজে রূপান্তরিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি হলো, জান্তা মানবিক বিরতির সুযোগ নিয়ে জাল নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। এর মাধ্যমে জান্তা সরকার তাদের বৈধতা তৈরি করার চেষ্টা করবে। বসন্ত বিপ্লব কখনই এই ধরণের ছলনা গ্রহণ করবে না, বিশেষ করে যখন দেশের অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ জান্তা হারিয়েছে। তাই মানবিক বিরতির ফলে উদ্ভূত স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া উচিত হবে না জান্তার।
মিয়ানমারে মানবিক সাহায্য জরুরিভাবে প্রয়োজন। কিন্তু তার জন্যে সামরিক একনায়কতন্ত্রের মূল কারণগুলোকেও উপেক্ষা করা যাবে না। এই মৌলিক বিষয়গুলোর সমাধান না করলে মানবসৃষ্ট উভয় হোক বা প্রাকৃতিক- তা মিয়ানমারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।



