যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পর পাকিস্তানে বেড়েছে সাইবার হামলা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পর পাকিস্তানে বেড়েছে সাইবার হামলা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির পর দেশটির অর্থনীতি যেমন চাঙ্গা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি সাইবার হামলার ঝুঁকিও অনেক বেড়েছে।

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জানিয়েছে, উদ্ভূত আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে সরকার ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে। করাচিতে অনুষ্ঠিত 'সিকিউরিং দ্য এআই জার্নি' শীর্ষক ফোর্টিনেট সিকিউরিটি ডে ২০২৬ সম্মেলনের এক ফাঁকে মার্কিন বহুজাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফোর্টিনেটের দক্ষিণ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সিনিয়র রিজিওনাল ডিরেক্টর শাদি খুফাশ এই হুঁশিয়ারি দেন।

সম্মেলনে পাকিস্তান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (পিকের্ট) মহাপরিচালক ড. হায়দার আব্বাস দেশের ডিজিটাল অগ্রগতির পাশাপাশি চলমান বিপদের কথা তুলে ধরেন। ফোর্টিনেটের শীর্ষ কর্মকর্তারাও পাকিস্তানের ডিজিটাল রূপান্তরে তাদের সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ড. হায়দার আব্বাস জানান, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত পাকিস্তানে ২৫৩টি সাইবার হামলা হয়েছে। এমনকি গত সপ্তাহে একটি সরকারি সংস্থায় র‍্যানসামওয়্যার বা মুক্তিপণ দাবির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ডেটা বা তথ্য লক বা এনক্রিপ্ট হয়ে যাওয়ায় ব্যাকআপ থেকে তা উদ্ধার করতে হয়।

এর আগে ২০২৪-২০২৫ সালে সরকারি ও বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ৯২৭টি হামলা হয়েছিল। এর মধ্যে র‍্যানসামওয়্যার সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতি করছে। তিনি বলেন, "এসব ঘটনা সফলভাবে মোকাবিলা করা গেছে।" তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বুঝতেই পারছে না যে তারা সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধপ্রসঙ্গ টেনে সাইবার নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এটি পুরোপুরি একটি প্রযুক্তিগত যুদ্ধ, যা জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে মারাত্মক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।"

পাকিস্তানের আঞ্চলিক ভূমিকা, বাণিজ্য পথ ও জ্বালানি করিডোরের পরিবর্তনের কারণে দেশে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে উল্লেখ করে খুফাশ বলেন, "আঞ্চলিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের এই ভূমিকার কারণে একটি বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।" তবে এই আলোচনা ও মনোযোগের কারণে শত্রুদের নজরও দেশের ওপর পড়বে। তাই প্রতিটি উদ্যোগে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ফোর্টিনেট দীর্ঘ মেয়াদে পাকিস্তানে বিনিয়োগ ও কর্মী নিয়োগ বজায় রাখবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র স্থাপন ও চালুর নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে দেশের বিভিন্ন খাতের বিভিন্ন সরকারি ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের অধীনে পৃথক সাইবার নিরাপত্তা দল গঠনের কাজ চলছে। একই সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক হামলা শনাক্তকরণে সহযোগিতার আহ্বানও জানান হয়।