আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর কাদা ও পাথরের নিচে আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে মঙ্গলবারও হিমশিম খাচ্ছিলেন উদ্ধারকারীরা। এক প্রদেশজুড়ে তাণ্ডব চালানো এ বন্যায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় জানায়, সোমবারের আকস্মিক বন্যার পর প্রায় ১০০ জনের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
একই সাথে মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ২৩ জন বলে জানানো হয়েছে।
নুরিস্তান প্রদেশের রাজধানী প্রত্যন্ত পারুনে কয়েক ডজন মানুষকে কাঠের খুঁটি ও খালি হাতে নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে।
৩৪ বছর বয়সী ওষুধ বিক্রেতা ফরিদ গুল জাহির বলেন, ‘আমি জীবনে এত ভয়ংকর বন্যা কখনো দেখিনি।’
তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। চারদিকে শিশু ও মানুষের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম।’ পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি আহত হন।
মঙ্গলবার পারুনে ধ্বংসস্তূপ সরাতে একটি বুলডোজার ব্যবহার করা হলেও তাতে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। বন্যায় বহু দোকান কাদার নিচে চাপা পড়েছে।
বিশাল বড় পাথর গড়িয়ে এসে ভবনগুলোতেও আঘাত হেনেছে।
গভর্নরের কার্যালয় সোমবার জানায়, পারুনের মেয়র ও সরকারের আরো কয়েকজন কর্মচারী নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন।
স্পোগমাই হোটেলের ব্যবস্থাপক জাকিরুল্লাহ জাকি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমাদের ওপর যেন খোদার গজব নেমে এসেছে।’
২৯ বছর বয়সী জাকি বলেন, ‘অন্য সব হোটেল, বাজার ও দোকানপাট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’
আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যোগাযোগ বিষয়ক প্রধান জুমা খান নাইয়েল পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, পানির উচ্চতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
তিনি জানান, সংস্থার কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবক কোদাল ও খালি হাতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে আমরা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে তাদের জন্য তাঁবু সরবরাহ করছি।’
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, তারা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছে।
বন্যা ও ভারী বৃষ্টিতে প্রতিবেশী পাকিস্তানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বন্যা এবং ভারী বৃষ্টিতে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।
দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধানের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আফগানিস্তান বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে সেখানে বন্যার দুর্যোগ বাড়ছে।
চলতি মাসে মাওলভি মতি-উল-হক খালিস বলেন, পরিবেশগত সমস্যাগুলো ‘আফগান জনগণকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দেশে মানবিক সঙ্কট আরো গভীর করেছে।
সূত্র : বাসস



