পাকিস্তানের কাশ্মিরে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা : জানা গেল নিহতের সংখ্যা

পাকিস্তানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ২২টি কফিন যখন জানাজা মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়, তখন সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ফাইল ছবি

পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরে গতকাল বুধবার (১০ জুন) একটি সামরিক হেলিকপ্টার এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। অবশেষে এতে কতজন নিহত হয়েছেন, তা জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, ‍দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এরই মধ্যে তাদের জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

জানাজায় অংশ নিয়ে সরকারের একাধিক শীর্ষ নেতা, সামরিক কর্মকর্তাগণ এবং স্বজনেরা নিহত এই বীর সেনাদের শেষ বিদায় জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ২২টি কফিন যখন জানাজা মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়, তখন সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, গত বুধবার আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদের কাছে উড্ডয়নের সময় এমআই-সেভেন্টিন হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলে কোনো আরোহীই প্রাণে রক্ষা পায়নি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে মনে করেছিল যে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি শুরু করা হয়েছে।

উদ্ধারকর্মী এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, বিধ্বস্ত হওয়ার পর হেলিকপ্টারটিতে আগুন ধরে যায় এবং আগুনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকেই সেনাদের লাশগুলো উদ্ধার করতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজন কর্নেল এবং দুজন আর্মি মেজর রয়েছেন। শোকাবহ এই জানাজায় আজাদ কাশ্মিরের প্রধানমন্ত্রী ফয়সাল মমতাজ রাঠোরসহ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা অংশ নেন।

নিহত এই সেনারা একটি বিশেষ নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনের জন্য যাচ্ছিলেন। সম্প্রতি নিষিদ্ধ হওয়া বিভিন্ন সংগঠনের জোট ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ মুজাফফরাবাদ অভিমুখে একটি বিক্ষোভ মার্চের ডাক দেয়ায় ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। তবে এই পরিকল্পিত বিক্ষোভের সাথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে বলে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

পাকিস্তানে সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেও দেশটির উত্তরাঞ্চলে নিয়মিত ফ্লাইটে থাকা একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুজন পাইলট এবং তিনজন টেকনিশিয়ান নিহত হয়েছিলেন।

সূত্র : দৈনিক সাবাহ