বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে নির্মিত ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দান করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যসহ গোটা ভারত।
শুক্রবার (১৯ জুন) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এদিন জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য ইতোমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে এবং সত্য সামনে আসবেই। এতে যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তবে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।
‘রামভক্ত’দের উদ্দেশে যোগী বলেন, ‘প্রভু রাম আমাদের মর্যাদা ও ধৈর্যের শিক্ষা দিয়েছেন। তার জন্মভূমি ফিরে পেতে আমরা ৫০০ বছর অপেক্ষা করেছি। তাই আর ১৫ দিন ধৈর্য ধরুন। তদন্ত শেষ হোক, সত্য নিজেই প্রকাশ পাবে।’
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘কিছু মানুষ অযোধ্যা এবং রাম মন্দিরের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। যারা কখনো অযোধ্যার উন্নয়নের জন্য কিছু করেনি, তারাই আজ নানা মন্তব্য করছে। রামভক্তদের উচিত এই ধরনের ফাঁদে পা না দেয়া।’
সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, রাম মন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকার হিসাব মিলছে না এবং এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। প্রথমদিকে মন্দির ট্রাস্ট অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরে অভ্যন্তরীণ তদন্তে কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে।
এরপর ট্রাস্টের আবেদনের ভিত্তিতে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের এসআইটি গঠন করে উত্তরপ্রদেশ সরকার। ইতোমধ্যে মন্দিরের দুই কর্মচারীকে অযোধ্যা পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
প্রাথমিক সূত্রের দাবি, তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।



