ফিলিপাইনে প্রেসিডেন্টের ভাষণের আগে রাজধানীতে বিস্ফোরণ

সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে এই বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয়নি। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য নেশন’ ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে এসব ঘটনা ঘটে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ম্যানিলায় বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথের কাছে বিস্ফোরণ ঘটেছে
ম্যানিলায় বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথের কাছে বিস্ফোরণ ঘটেছে |সংগৃহীত

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথের কাছে একটি হাতে তৈরি বোমা বিস্ফোরিত হয় এবং এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দেশটির সিনেট ভবনের কাছে একটি সন্দেহভাজন অবিস্ফোরিত একটি বোমা পাওয়া যায়। দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে এই বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয়নি। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য নেশন’ ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে এসব ঘটনা ঘটে।

জাতীয় পুলিশের প্রধান হোসে মেলেনসিও নারতাতেস জুনিয়র সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘দু’টি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি বলেন, পুলিশ ‘বোমার হুমকি, প্রকৃত বোমা হামলা এবং অন্যান্য পরিস্থিতি মোকাবেলায়’ প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে ‘কোনোভাবে একটি বিষয় আমাদের নজর এড়িয়ে গেছে এবং বিচার মন্ত্রণালয়ের সামনে বিস্ফোরণ ঘটেছে’।

ভোরের এই বিস্ফোরণ কতটা শক্তিশালী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ম্যানিলা পুলিশের মুখপাত্র ফিলিপ ইনেস বলেন, ‘আমরা এখনো তদন্ত করছি। তাই বিস্ফোরণটি কতটা বড় বা ছোট ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারছি না।’

ফিলিপাইনের গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের কারণে একটি গাড়ির সামনের কাচ ফেটে গেছে এবং আশপাশে সামান্য ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।

পুলিশ জানায়, সিনেট ভবনের কাছে পাওয়া সন্দেহজনক ডিভাইসটি সকাল সাড়ে ৮টার কিছু আগে (জিএমটি অনুযায়ী ০০৩০) একটি রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন একজন ট্রাক চালক। পরে তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের বিষয়টি জানান।

বিস্ফোরক নিষ্কিয়করণে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে একটি ডেটোনেটর, ঘড়ি এবং পরীক্ষার জন্য একটি পাত্রে রাখা ‘বাদামি রংয়ের গুঁড়া‘সহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করেন।

আঞ্চলিক পুলিশের মুখপাত্র হ্যাজেল আসিলো জানান, ওই ডিভাইস বিস্ফোরিত হলে তা কতটা শক্তিশালী হতে পারত, সে বিষয়ে তিনি কোনো ধারণা দিতে পারছেন না।

সোমবার মার্কোসের ভাষণ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ফিলিপাইনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তে বর্তমানে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) বিচারের মুখোমুখি রয়েছে। একইসাথে ভুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প-সংক্রান্ত দুর্নীতি কেলেঙ্কারির কারণে ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: বাসস