লোহিত সাগরে হাউছি হামলায় পণ্যবাহী জাহাজের ৩ ক্রু নিহত

ফেব্রুয়ারির শেষে মার্কিন-ইসরাইল ও ইরানের হামলা কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর এটিই কোনো জাহাজ হাউছিদের হামলায় প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পণ্যবাহী জাহাজ
পণ্যবাহী জাহাজ |সংগৃহীত

লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালীতে ইয়েমেনের ইরান-ঘনিষ্ঠ হাউছি বাহিনীর হামলায় একটি ছোট পণ্যবাহী জাহাজের ৩ জন ক্রু নিহত হয়েছেন। দুটি ইয়েমেনি কোস্ট গার্ড উৎস এবং সরকারের দুজন সামরিক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রয়টার্স মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষে মার্কিন-ইসরাইল ও ইরানের হামলা কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর এটিই কোনো জাহাজ হাউছিদের হামলায় প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।

তানজানিয়ার পতাকাযুক্ত ‘তিহামাহ’ নামের জাহাজটিতে হামলার খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও)। সংস্থাটি জানায়, ইয়েমেনের মোখা উপকূলের কাছে অজ্ঞাত কোনো বস্তু বা উড়ন্ত বস্তু জাহাজটিতে আঘাত হানলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা আমব্রে জানিয়েছে, ইয়েমেনের পেরিম দ্বীপ থেকে ৩.৩ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নোঙ্গর করা অবস্থায় জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করে হাউছিরা। এতে ৩ জন নিহত হন। ইয়েমেনি উৎসগুলো জানায়, নিহতদের মধ্যে ২ জন পাকিস্তানি এবং ১ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। জাহাজটি ওমানের সালালাহ থেকে জিবুতি হয়ে যাচ্ছিল। হামলার পর কর্মীরা জাহাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে ইয়েমেনি কোস্ট গার্ড সদস্যরা তাদের সহায়তায় পৌঁছান।

আমব্রে আরও জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজটি কোনো সৌদি মালিকানাধীন বা পরিচালিত ছিল না। এটি শনিবার মোখা বন্দর থেকে ছেড়ে এসেছিল। এলএসইজির তথ্যানুসারে জাহাজটির মালিক ও ব্যবস্থাপক মিসরের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে মন্তব্যের জন্য তাদের সাথে ফোন বা ইমেইলে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো সাড়া দেয়নি।

হাউসিরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে গত মাসে তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছিল। তাদের দাবি ছিল, রিয়াদ ইয়েমেনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। যদিও সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এমনিতেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ব বাণিজ্য ও পরিবহন সংস্থাগুলো বেশ বিপাকে পড়েছে। তার ওপর বাব এল-মান্দেব প্রণালীতে আবারো আক্রমণ বাড়ায় অনিশ্চয়তা আরো গভীর হলো। কেপলারের তথ্য বলছে, অবরোধের আগে প্রতিদিন গড়ে ৫০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত। তবে গত সপ্তাহে এই প্রণালী দিয়ে দৈনিক গড়ে মাত্র ৩২টি জাহাজ যাতায়াত করেছে।