আবার যদি যুদ্ধ বাঁধে ইরানের লক্ষ্য হবে ইসরাইলের বিমানঘাঁটিগুলো

ইরানও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের কড়া জবাব দেয়া হবে নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পদদলিত করার জন্য ইসরাইলের পতাকা আঁকা তেহরানের একটি ব্যস্ত সড়ক (ফাইল ছবি)
পদদলিত করার জন্য ইসরাইলের পতাকা আঁকা তেহরানের একটি ব্যস্ত সড়ক (ফাইল ছবি) |সংগৃহীত

তেল আবিবের সাথে তেহরানের চলমান উত্তেজনা নতুন করে বাড়লে ইসরাইলের বিমানঘাঁটিগুলো ইরানি হামলার প্রধান নিশানায় পরিণত হতে পারে। সম্প্রতি বিভিন্ন সামরিক প্রতিবেদন ও মূল্যায়নে এমন আভাসই দেয়া হয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে ইসরাইলি বিমানবাহিনী দূরপাল্লার হামলা চালানো, পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান মোতায়েন এবং গোয়েন্দা ও লজিস্টিকস (সামরিক রসদ ও সহায়তা) অবকাঠামো শক্তিশালী করায় সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের কড়া জবাব দেয়া হবে নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে।

নেভাতিম বিমানঘাঁটি : দূরপাল্লার হামলার মূল কেন্দ্র

দক্ষিণ ইসরাইলের নেভাতিম বিমানঘাঁটিকে তাদের বিমানবাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনা কেন্দ্র ধরা হয়। এই ঘাঁটিতে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির এফ-৩৫আই 'আদির' যুদ্ধবিমানের বড় বহর। এফ-৩৫ এর এই বিশেষ সংস্করণে রাডার ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত আঘাত হানার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া এখানে ভারী বোমা বহনে সক্ষম এফ-১৫আই 'রাআম' যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা আছে।

ইরানের সাথে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে আকাশেই বিমানে জ্বালানি ভরার সামরিক বিমানগুলো (অ্যারিয়াল রিফুয়েলিং) এই ঘাঁটির জন্য অত্যন্ত জরুরি। সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় ইরান এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল, তবে অবকাঠামোগত ক্ষতির সঠিক পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তেল নোফ : রসদ ও পরিচালনার বড় ঘাঁটি

তেল আবিবের কাছে অবস্থিত তেল নোফ বিমানঘাঁটি ইসরাইলি বিমানবাহিনীর আরেকটি শক্তিশালী কেন্দ্র। এখানে এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের বেশ কয়েকটি স্কোয়াড্রন রয়েছে। অভিযান চালানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও সহায়তামূলক কাজে এই ঘাঁটি ব্যবহৃত হয়।

মধ্য-ইসরাইলে অবস্থিত হওয়ায় এই ঘাঁটিটির গুরুত্ব অনেক বেশি। ফলে যেকোনো সামরিক সঙ্ঘাত ছড়ালে এটিও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগের হামলাগুলোতেও তেল নোফকে নিশানা করা হয়েছিল বলে ইরান জানিয়েছিল।

ইতোমধ্যে ১ আগস্টের এক প্রতিবেদনে ইরানের বার্তা সংস্থা ওয়ানা জানায়, দক্ষিণ পার্স জ্বালানি কেন্দ্রে আঘাতের পর কাতারে বিশ্বের অন্যতম বড় গ্যাস রিফাইনারিতে পাল্টাহামলা চালায় ইরান। ঘটনাটি ঘটে ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে। ওই পরিস্থিতির পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় দুঃখপ্রকাশ করে জানান, এমন ঘটনা আর ঘটবে না। যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্র বেশ ভালোভাবেই জানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কোনো সাধারণ হুমকি নয়।