লেবাননের সেনাবাহিনী মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্যে ইসরাইলের সাথে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত তিনটি ‘পাইলট জোন’র একটিতে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে।
এ ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।
ইসরাইলের সাথে এ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় লেবাননে অভিযান চালায় ইসরাইল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দেশটির কিছু এলাকা এখনো ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী তথাকথিত তিনটি পাইলট জোনের মধ্যে শুধু একটির উপকণ্ঠ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্য দখলকৃত এলাকাগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
বাকি দুটি পাইলট জোনে আগে থেকেই লেবাননের সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে।
সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আজ সকালে নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জাওতার আল-গারবিয়া এলাকায় সেনা ইউনিট মোতায়েন শুরু হয়েছে।’
লেবাননের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, লেবাননের পতাকা বহনকারী কয়েকটি সামরিক যান ইসরাইলের ভাষায় ‘নিরাপত্তা অঞ্চলের’ সীমানায় অবস্থিত গ্রামটিতে প্রবেশ করছে।
হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে মার্চ মাসে ইসরাইলের দিকে রকেট হামলা চালানোর মাধ্যমে লেবাননকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। এরপরই ইসরাইল লেবাননে অভিযান শুরু করে।
গত মাসে লেবানন ও ইসরাইল একটি কাঠামোগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা ও দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা।
হিজবুল্লাহ বারবার এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে ও নিরস্ত্র হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরাইলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারেরও কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।
ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘পাইলট এলাকাগুলোর একটিতে’ নিজেদের বাহিনীর অবস্থান পুনর্বিন্যাস করবে।
সূত্র : এএফপি/বাসস



