ভিয়েনায় জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নির্মাণাধীন দারখোভিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ইরানের ছাত্র সংবাদ সংস্থা ইসনা মঙ্গলবার(২১ জুলাই) জানায়, বিবৃতিতে মিশন উল্লেখ করে, ১৮ জুলাই ভোরের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাতির মর্যাদা ও বৈজ্ঞানিক স্বাবলম্বিতার প্রতীক কারুন বা দারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণস্থলে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে আগ্রাসন চালায়।
গত বছর জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইরানি সেফগার্ডের অধীনে থাকা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে এটি ছিল আঠারো নম্বর হামলা। বিবৃতি অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রমাণ করে যে জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও শর্তহীন আত্মসমর্পণের দাবি প্রত্যাখ্যান করার কারণেই বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে। পরমাণু অস্ত্র বিস্তার দুশ্চিন্তার নামে হামলাকারীদের সাজানো গল্পগুলো মিথ্যা ও প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।
আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে করা এমন হামলা মারাত্মক উদ্বেগের। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতার কারণে পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নীরবতার মাধ্যমে আগ্রাসীদের আসকারা দিলে তা বিশ্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের আস্থা কমিয়ে দেবে। তাই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে এর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা এবং মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ১৮ জুলাই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছেন ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান। ইরান সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা রোধ করা বৈশ্বিক দায়িত্ব, তাই এমন বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে বিশ্বকে শূন্য সহনশীলতার নীতি নিতে হবে।



