যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করতে কানাডা ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের পরিচালিত বেআইনি ও চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে শামিল হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। পাশাপাশি কানাডার সার্বভৌমত্বের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেছে দেশটি।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু সোমবার (১৭ আগস্ট) জানায়, কানাডার এই ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই রোববার বলেন, 'ওয়াশিংটন কানাডাকে তাদের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বলে মনে করে। তারা কানাডিয়ান পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে, কানাডাকে অপমান করে এবং দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে শাস্তির হুমকি দেয়। আর অটোয়ার প্রতিক্রিয়া হয়: ‘বুঝতে পেরেছি, স্যার!’ এই পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটনকে তোষামোদ করতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বেআইনি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে অটোয়া। এর বিনিময়ে তারা কী পাচ্ছে? এটা মোটেও ‘কানাডার হকি নাইট’ নয়; বরং এটি ওয়াশিংটনের একটি সহযোগী দল মাত্র।'
গত মার্চে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে প্রস্তুত তাঁর দেশ। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য লক্ষ্য বাস্তবায়নে অটোয়ার সমর্থনের ইঙ্গিত মেলে।
যদিও কানাডিয়ান কর্মকর্তারা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে অটোয়ার পরামর্শ নেয়া হয়নি কিংবা তারা এতে জড়িত ছিল না। এমনকি ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অভিযানে অংশ নেয়ার ইচ্ছাও তাদের নেই। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নীতিগত কথা যাই থাক না কেন, কানাডার সশস্ত্র বাহিনী বাস্তবে মার্কিন সামরিক কমান্ড কাঠামোর সাথে অত্যন্ত গভীরভাবে সম্পর্ক রেখে কাজ করছে।



