যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঐতিহাসিক জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করবে বিভিন্ন দেশের ৬০০ সাংবাদিক। আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত তারা জানাজা, শোক অনুষ্ঠান ও দাফন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি।
গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামী নির্দেশনা মন্ত্রী আব্বাস সালেহী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র এবং সাংস্কৃতিক নানা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দেশী সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি প্রায় ৬০০ বিদেশী সাংবাদিক এই শোকাবহ অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করবেন, যাতে এই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিটি আবেগঘন দিক বিশ্ববাসীর কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে যায়।
শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখন তেহরানের পথে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেবে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিরোধী দলের চার সংসদ সদস্য।
এ ছাড়া রাশিয়া, চীন, ভারতসহ ৩০টিরও বেশি দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিরা এই মহান নেতার শোক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী শনিবার থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রজেক্ট কমপ্লেক্সে শহীদ নেতার লাশ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হবে এবং এর মাধ্যমেই শুরু হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও বেদনাবিধুর এই শোক অনুষ্ঠান।
কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, বহুমাত্রিক এই জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন শোকগ্রস্ত মানুষের ঢল নামবে, যা ইরানের ইতিহাসে বৃহত্তম জানাজা হতে যাচ্ছে।
সোমবার ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথজুড়ে শোক মিছিলের পর ৭ জুলাই পবিত্র কোম নগরীতে, ৮ জুলাই ইরাকে এবং সবশেষে ৯ জুলাই মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে শেষ হবে এই আনুষ্ঠানিকতা। এই শোকের আবহ শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, প্রতিবেশী দেশ ইরাকের বাগদাদ, কারবালা এবং নাজাফেও অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ শোক ও দোয়া অনুষ্ঠান।



