হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে ইরানের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া চুক্তির সাথে মিলছে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইরান ‘খুবই খারাপ কাজ’ করছে। কেউ কেউ এটিকে অসম্মানজনকও বলবেন।’
তিনি আরো বলেন, ইরান যা করছে, তা ‘আমাদের সাথে হওয়া চুক্তিতে নেই’।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো থেকে ইরান ‘যেন ফি না নেয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে ট্যাঙ্কারগুলো থেকে ইরান ফি নিচ্ছে। এমনটা তারা যেন না করে। যদি করেও থাকে, তাহলে এখনই তা বন্ধ করা উচিত।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্যে এটিই প্রতিফলিত হয় যে চুক্তিটি ঠিক কতটা ভঙ্গুর, যেখানে চুক্তিতে কী অন্তর্ভুক্ত ছিল আর কী নেই, তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি লিখিত বার্তা প্রচার করা হয়, যেখানে তিনি বলেছেন, সরকার ‘হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনাকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে’।
তবে সেটি কিভাবে করা হবে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
তবে শুধু হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়েই না, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আরো নানামুখী টানাপোড়েন চলছে।
কারণ, যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবাননের ওপর হামলা বন্ধ করার কথা থাকলেও ইসরাইল হামলা চালিয়েই যাচ্ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইসরাইলি হামলায় গতকালও ৩০৩ জন নিহত হয়েছেন।
হরমুজ নিয়ে মোজতবা খামেনির বার্তা
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে এবং বিবৃতিটি ছিল লিখিত।
যুদ্ধের শুরুতে তার বাবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদ গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি।
তার বার্তায় তিনি বলেছেন যে, এই যুদ্ধে ইরানের জনগণই ‘বিজয়ী পক্ষ’ এবং ইরানই এই যুদ্ধে ‘বিজয়ী জাতি’।
তিনি বলেন, সরকার ‘প্রতিটি ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করবে’ এবং ‘এই যুদ্ধে আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করবে’।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার ‘হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনাকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে’। তবে সেটি কিভাবে করা হবে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
ইরানপন্থিদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত চত্বরে আপনাদের কণ্ঠ আলোচনা ও দরকষাকষির পরিণতিতে প্রভাব ফেলে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান ‘কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং এখনো চাচ্ছে না’, তবে ‘নিজেদের বৈধ অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কোনোভাবেই পিছু হটবে না’।
ইরানের মিত্র ও আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোও এই অবস্থানের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে স্টারমার ও ট্রাম্পের আলোচনা
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে সমাধান খোঁজার ‘পরবর্তী ধাপে’ পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার কাতারে পৌঁছানোর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাথে ফোনে কথা বলেন স্টারমার।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, স্টারমার শিপিং রুটটি খুলে দেয়ার বিষয়ে ‘কার্যকর একটি পরিকল্পনায় একমত হতে অংশীদারদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের প্রচেষ্টা’ তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে এবং প্রণালী খুলে দেয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আমরা সমাধান খোঁজার পরবর্তী ধাপে এগোচ্ছি, এতে উভয়েই একমত হয়েছেন।’
বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেয়া হয়, স্টারমার ও ট্রাম্প ‘যত দ্রুত সম্ভব জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
লেবানন ও ইসরাইলের সম্ভাব্য আলোচনা
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন যুদ্ধবিরতি জানিয়েছেন, তার সরকার লেবাননের সাথে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। এই আলোচনায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং দুই দেশের শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে একটি বৈঠক হবে, যেখানে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হবে।
আলোচনা শুরুর আগে লেবাননের কর্মকর্তারা যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের উদ্দেশে দেয়া এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না।’
যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার দিনই বলেছিলেন, লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা লেবাননে হামলাকে এই চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গতকাল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর রকেট উৎক্ষেপণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে মনে হচ্ছে যে রাতে সেখানকার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে ইসরাইল লেবাননের ওপর তাদের হামলা ‘কমিয়ে আনবে’।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ফোনালাপের পর এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমি বিবির (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তার ঘনিষ্ঠরা বিবি নামে ডাকে) সাথে কথা বলেছি, সে হামলা কিছুটা কমাবে। আমার মনে হয় আমাদেরও একটু সংযত হওয়া উচিত।’
লেবাননের বাসিন্দাদের সরার নির্দেশ
গতকাল বৃহস্পতিবার লেবাননে ব্যাপক হামলার পর দেশটির রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, এর মধ্যে জনাহ এলাকাও অন্তর্ভুক্ত, যেখানে দু’টি বড় বড় হাসপাতাল অবস্থিত।
তিনি বলেন, এই দুই হাসপাতালে ভর্তি থাকা প্রায় ৪৫০ রোগীকে স্থানান্তরের জন্য কোনো বিকল্প চিকিৎসা সুবিধা নেই, যার মধ্যে আইসিইউতে থাকা ৪০ জন রোগীও রয়েছেন। ফলে তাদের সরিয়ে নেয়া বাস্তবে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে তিনি আরো জানান, বুধবারের হামলায় প্রায় এক হাজার ১৫০ জন আহত হয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা ৩০৩।
দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদর দফতরে পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র আছে, যেখানে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ অবস্থান করছেন। সেটিও সরাতে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে শুরু থেকেই বিভ্রান্তি ছিল। ইসরাইলের দ্বিতীয় টার্গেট হিসেবে পরিচিত লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত কি-না, তা নিয়ে মতভেদ দেখা যায়।
ইরানি কর্মকর্তা ও মধ্যস্ততাকারী দেশ বলছে, চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তা ছিল না।
এই বিভ্রান্তির মধ্যেই লেবাননে ইসরাইলের হামলা চলে। ছয় সপ্তাহ আগে সঙ্ঘাত শুরুর পর যে শক্তি দিয়ে হামলা চালানো হতো, এবার যেন তার চেয়েও বেশি জোরালো হামলা হয়েছে। এর বিপরীতে ইরানও তাদের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে এবং একইসাথে তারা আবারো হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার ও পাল্টা হামলার হুমকি দেয়।
উল্লেখ্য, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয়।
যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান?
গত ৮ এপ্রিল এক মাসেরও বেশি সময় পর দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি করার জন্য ইরানকে সময় বেধে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওই সময় উত্তর আমেরিকার স্থানীয় সময় ৭ এপ্রিল রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া না হলে ইরানে আরো বড় ধরনের হামলা চালানোর হুমকি দেন তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না। আমি চাই না এটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত তা ঘটবে।’
আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে ঘোষণা করছি যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করার জন্য যুদ্ধবিরতির শর্ত ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য উভয়পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুদ্ধ থামানোর জন্য ইরানের পক্ষ থেকে দেয়া হয় ১০টি শর্ত তুলে ধরা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প গত মাসেই ১৫টি শর্ত তুলে ধরে সেগুলো মেনে নেয়ার জন্য ইরানের শাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ইরানের ১০ শর্ত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার আগে ইরানের পক্ষ থেকে তার কাছে ১০টি শর্ত উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে দেয়া ১০ দফার একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রস্তাব আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে।’
ইরানের সরকারি গণমাধ্যমে শর্ত ১০টি তুলে ধরা হয়েছে।
সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ইরান ও তার মিত্রদের ওপর পুনরায় হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকা।
ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে বাধা প্রদান না করা।
ইরানের ওপর থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সব সম্পদ ও সম্পত্তি অবিলম্বে ফেরত প্রদান।
ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলা সব প্রস্তাব বাতিল করা।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রস্তাবগুলোও বাতিল করা।
ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেয়া।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।
লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
ইরানের গণমাধ্যমে তখন দাবি করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত মেনে নিয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র সেটি তখন নিশ্চিত করেনি। তবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ যে একমত হয়েছে, সেটি নিশ্চিত হয়েছে বিবিসি।
সূত্র: বিবিসি



