যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) খান ইউনিসে পুলিশের একটি গাড়িতে ইসরাইলি হামলায় তিনজন বেসামরিক পথচারীসহ কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন।
গাজায় আরেকটি পৃথক হামলায় দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার একটি বাড়িতে বোমা হামলায় আরো দু’জন নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন হস্তক্ষেপ করে বেসামরিক এলাকায় নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের জন্য কর্মরত স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর ওপর ইসরাইলি হামলা বন্ধ করে।
মন্ত্রণালয়টি বলেছে, খান ইউনিসে একটি সংঘর্ষ থামাতে নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করার পর ওই হামলা চালানো হয়।
মন্ত্রণালয়টি আরো বলেছে, ‘বেসামরিক পুলিশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অব্যাহত নীরবতা ইসরাইলি দখলদারিত্বের সাথে সহযোগিতার শামিল, যা আরো অপরাধ সংঘটনে ইসরাইলকে উৎসাহিত করছে।’
২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজার ওপর চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধের সময় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নিয়মিতভাবে ত্রাণবহরকে নিরাপত্তা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার ফলে লুটপাট বেড়ে যায়। এর ফলে, ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া খাদ্য সঙ্কট আরো বৃদ্ধি পায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত বছরের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এতে ইসরাইলি বোমাবর্ষণের তীব্রতা কমে আসে।
কিন্তু স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইল হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং এতে কমপক্ষে ৯৮৪ জন নিহত ও দুই হাজার ২৩৫ জন আহত হয়েছেন।
এই যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং আরো এক লাখ ৭২ হাজার জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা


