আগ্রাসী মার্কিন বাহিনীর কমপক্ষে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে দুই দফায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে এবং তাদের ধৃষ্টতার উচিত শিক্ষা দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জনসংযোগ বিভাগ।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে পবিত্র কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যারা তোমাদের ওপর আক্রমণ করে, তোমরাও তাদের ওপর ঠিক সেভাবেই পাল্টা আক্রমণ করো। এই নীতি মেনেই আজ ভোরের আলো ফোটার আগেই আইআরজিসির অকুতোভয় অ্যারোস্পেস ফোর্স এবং নৌবাহিনীর একযোগে এই শাস্তিমূলক অভিযান শুরু করে।
শিশু হত্যাকারী মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি ইরানের আইআরজিসির বেশ কয়েকটি সেবামূলক ইউনিট, উপকূলীয় আউটপোস্ট এবং বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের পুলিশ ও নিরাপত্তা কমান্ডের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছিল। সেই অন্যায়ের মোক্ষম জবাব দিতেই মার্কিন বাহিনীর ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযানের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে আলী সালেম, আহমদ আল-জাবের ও শেখ ইসা বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।
এই অভাবনীয় সফলতার পর ইরানি বাহিনী মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছে যে, পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছ থেকেই কোনো বিজয় আসে না।
তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীর যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ও অপকর্মের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর এই পাল্টা আঘাতের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে খাতামুল আম্বিয়ার কেন্দ্রীয় সদর দফতর থেকেও একটি বিশেষ বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। এই বার্তায় বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে তাদের হামলা বন্ধের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা মূলত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী ও চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া জবাবের কারণেই হয়েছে।
বার্তাটিতে আরো বলা হয়, ইরানি সেনাদের এই প্রতিরোধ মার্কিন বাহিনীর ওপর আরো একটি পরাজয় চাপিয়ে দিয়েছে। মার্কিন আগ্রাসন ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের এই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি



