ইরানে কম্পিউটার গেমের জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়

গেম শিল্পের সাথে যুক্ত কর্মীদের দক্ষ করে তোলা এবং এ খাতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ছড়িয়ে দিতেই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যা তরুণদের কাজের সুযোগ বাড়াবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি |সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে এখন প্রযুক্তির রাজত্ব। সেই পরিবর্তনের হাওয়ায় যোগ দিয়ে কম্পিউটার গেম শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে কম্পিউটার গেম সংক্রান্ত বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়।

ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ রোববার (১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর উল্লেখ করেছে। অ্যাকাডেমিক জিহাদের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির শিক্ষা বিষয়ক উপ-পরিচালক মেহেদি বাসোলি।

দক্ষতা উন্নয়ন ও নতুন দিগন্ত

মেহেদি বাসোলি জানান, গেম শিল্পের সাথে যুক্ত কর্মীদের দক্ষ করে তোলা এবং এ খাতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ছড়িয়ে দিতেই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যা তরুণদের কাজের সুযোগ বাড়াবে।

শিক্ষা কার্যক্রমের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে অ্যাকাডেমিক জিহাদের শিক্ষা ব্যবস্থা দুই ভাগে পরিচালিত হচ্ছে—উচ্চশিক্ষা এবং স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ। উচ্চশিক্ষার আওতায় ২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৫টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ইতিমধ্যেই স্নাতক শেষ করেছেন ৮ হাজার শিক্ষার্থী। এছাড়া সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা ১৬২টি কেন্দ্রে স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কোর্স চালু রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ কোর্সের বদলে দক্ষতা ও চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

স্বাবলম্বী শিক্ষা খাত ও গবেষক নিয়োগ

প্রতিষ্ঠানটির অর্থায়নের বিষয়ে তিনি জানান, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ নিজস্ব আয় থেকে আসে। সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যায় মাত্র ২০ শতাংশের মতো। গত বছরের তুলনায় এ খাতের আর্থিক সাফল্য এবং কোর্সের সংখ্যা দুটোই বেড়েছে। গত বছর সমাজ ও শ্রমবাজারের চাহিদা মেনে ১ হাজার ৩৩৮টি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান। বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা এবং মুখ ও দাঁতের যত্নের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে চারটি বিশেষায়িত কর্মগোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে।

পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরির কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গবেষক ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে জানিয়ে বাসোলি বলেন, নিয়োগের জন্য এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪১ জন আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ১৯১ জনের আবেদন বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।