যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্মত হওয়া হরমুজ প্রণালীর নৌ-রুট এড়িয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের যেকোনো চেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে আরো উত্তেজনা সৃষ্টি করবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
রোববার (২৮ জুন) ইরাকের রাজধানী বাগদাদ সফরকালে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। একইসাথে উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তেহরান ও ওয়াশিংটন একে অপরের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান যে ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে, তার বাইরে নতুন বা পৃথক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করবে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় পুরোপুরি চালু হতে বিলম্ব ঘটাবে এবং গত দুই রাতের মতো উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেবে।’
যদিও জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারও কৌশলগত এই পানিপথে ইরানের অনুমোদনহীন একটি বিকল্প রুট ব্যবহার করে বিভিন্ন জাহাজ চলাচল করেছে।
এর একদিন আগে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অভিযোগ করে, ওমান ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) তেহরানের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই নতুন নৌপথ ঘোষণা করেছে। একইসাথে ওই রুট ব্যবহার না করতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করে তারা।
আরাগচির এ মন্তব্যের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী একটি জাহাজে নতুন হামলার জবাবে শনিবার ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায় তেহরান।
সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে চলমান আলোচনাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
আরাগচি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ‘সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মেনে চলা এবং এটিকে তার নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত না হতে দেয়ার’ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একটি নতুন কাঠামোতে পৌঁছাতে হবে, যাতে এই অঞ্চলের সব দেশ থাকবে এবং বাইরের কোনো দেশের উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপ থাকবে না।’
ইরাকের উদ্যোগে উপসাগরীয় দেশগুলো, ইরান ও ইরাককে নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাবকেও স্বাগত জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরাকও এই সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় যুদ্ধের প্রথম দিন নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্য আগামী ৮ জুলাই রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রার আয়োজন করবে ইরাক।
সূত্র: বাসস



