রাতভর ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।
যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে ঘোষণা করছি যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার জন্য উভয়পক্ষ স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘উভয় দেশ যে বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছে, আমি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। এই উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষই অত্যন্ত গঠনমূলকভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করেছে।’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আরো আলোচনার জন্য’ ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) ইসলামাবাদে একটি বৈঠক ডেকেছে পাকিস্তান। সেখানে উভয়পক্ষের প্রতিনিধি দলকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দেয়া ১১ ঘণ্টার বিশেষ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, ‘পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া ১০ দফার একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রস্তাব আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে।’
অন্যদিকে, ইরান সরকার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটিকে শাসকগোষ্ঠীর একটি বড় বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসিআই) থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান এই যুদ্ধে তার প্রায় সব লক্ষ্যেই অর্জন করেছে এবং শত্রুপক্ষ একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির খবরে ইরানে সাধারণ নাগরিকদেরকে সড়কে আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে।
সূত্র : বিবিসি



