যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির পর, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সামরিক বাহিনী পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি জাপান।
মঙ্গলবার জাপান সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ শুক্রবারের মধ্যে ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ হবে।
তিনি আরো জানান, প্রণালীটি মাইনমুক্ত করতে এখনো তল্লাশি ও অভিযান চলছে।
সোমবার ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জাপানও সমর্থন জানায়।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আস্থা ফিরিয়ে আনা ও মাইন অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য হরমুজ প্রণালীতে একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক ও স্বাধীন মিশন’ পরিচালনায় তারা প্রস্তুত।
তবে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এ ধরণের পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজ নিজ সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নেয়া হবে।
জাপানের সংবিধানে আত্মরক্ষার বাইরে শক্তি প্রয়োগের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ট্রাম্প এর আগে জাপানসহ বিভিন্ন মিত্র দেশকে প্রণালীটি পুনরায় উন্মুক্ত করতে এ অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিঞ্জিরো কোইযুমি বলেন, এই মুহূর্তে বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর সরকারি নাম ‘সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরামর্শ চালিয়ে যাব, পরিস্থিতি সতর্কভাবে মূল্যায়ন করব এবং আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আইনের কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বিবেচনা করব।’
নিক্কেই পত্রিকার খবরে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা যুদ্ধবিরতির পর, হরমুজ প্রণালীতে মাইন ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা অপসারণে মাইনসুইপারসহ বিভিন্ন জাহাজ পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দেন।
বর্তমানে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পরে বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে জাপানের সামনে বিভিন্ন বিকল্প থাকবে।
নিক্কেইর প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের মেরিটাইম সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স (এমএসডিএফ) মাইন অপসারণ কার্যক্রমে দক্ষ হিসেবে পরিচিত। তাদের কাছে এ ধরণের কাজে সক্ষম ১৬টি জাহাজ রয়েছে।
১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে যুদ্ধবিরতির পরও জাপানের সামরিক বাহিনী মাইন অপসারণ অভিযানে অংশ নিয়েছিল।
সূত্র : বাসস



