কাতারভিত্তিক জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক পল মাসগ্রেভের বরাত দিয়ে আল জাজিরা মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের মধ্যেই খুব দ্রুত ইরানের সাথে এক ধরনের সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছেন। তবে হরমুজ প্রণালী কিংবা কোনো পারমাণবিক চুক্তির বাইরে গিয়ে আসল মূল বিষয়টি দাঁড়িয়েছে—নিজেদের মুখ রক্ষা করে বা সম্মান বাঁচিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সংকট কাটিয়ে বের হওয়ার পথ (বা 'অফ-র্যাম্প') খুঁজে পাবে কি না। একই সাথে দুই পক্ষ এমন কোনো সমঝোতায় আসতে পারবে কি না, যা স্বয়ং ট্রাম্পের নিজের কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়।
আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাতকারে অধ্যাপক মাসগ্রেভ বলেন, 'ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিজের হাতের মুঠোয় পুরে ফেলেছেন। ট্রাম্প এখন যেকোনোভাবে পিচ্ছিল পথ কেটে বেরিয়ে যেতে চাইছেন, কিন্তু চাইলেই তিনি সহজে তা করতে পারবেন না।'
বিশ্ব পরিস্থিতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তিনি আরো যোগ করেন, 'পুরো ঘটনাপ্রবাহ তাকে একজন পরাজিত রাজনৈতিক খেলোয়াড় হিসেবে তুলে ধরছে।'
সামনের রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাসগ্রেভ উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুব শীঘ্রই মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, মার্কিন বাজারে পেট্রোলের দাম আকাশচুম্বী, আর ইরানের সাথে যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছে একেবারেই অপ্রিয় একটি বিষয়। ফলে আগামী নভেম্বর নির্বাচনের আগে এই রাজনৈতিক প্রচারণার ক্ষতিকর গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়ার মতো কোনো সহজ পথ ট্রাম্পের সামনে খোলা নেই।
তিনি আরো জানান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের নিজস্ব অর্থনীতি চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ঠিকই, তবে তারা খুব ভালো করেই জানে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যত বেশি কূটনৈতিক চাপে ফেলা যাবে, দিনশেষে নিজেদের জন্য তত ভালো চুক্তি আদায় করে নেয়া সম্ভব হবে।
পরিশেষে অধ্যাপক মাসগ্রেভের মত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক দর-কষাকষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল অস্ত্র বা শক্তি ছিল সংঘাত বাড়িয়ে দেয়ার হুমকি এবং বিশ্বপুঁজি ও আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের প্রবেশ আটকে রাখা। কিন্তু ট্রাম্প যেভাবে বারবার নিজের দেয়া কঠোর হুমকি থেকে পিছু হটেছেন, তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই চাপ দেয়ার ক্ষমতা ও দর-কষাকষির অবস্থান অনেকটাই নস্যাৎ ও দুর্বল হয়ে পড়েছে।



