যুদ্ধবিরতির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা, নিহত ১১

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, রাজধানী বৈরুত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে আনসার শহরের উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে ইসরাইলি হামলায় সাতজন নিহত হন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) আনসার ও দেইর আল-জাহরানি এলাকায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। নিহতদের সাতজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে লেবাননের কর্তৃপক্ষ।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, রাজধানী বৈরুত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে আনসার শহরের উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে ইসরাইলি হামলায় সাতজন নিহত হন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আনসারে হামলাটি চালানো হয়। ওই এলাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো বসবাস করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হামলার পর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়া গ্রামের রাস্তাগুলো দেখা গেছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, নিহত সাতজনই বেসামরিক নাগরিক এবং সেখানে কোনো সামরিক অবকাঠামো ছিল না। তিনি ইসরাইলকে উত্তেজনা বাড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান।

তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, আনসারে হামলায় ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার সাথে জড়িত হিজবুল্লাহর এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, রাদওয়ান ফোর্সের একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসান ছিলেন ওই হামলার লক্ষ্য।

আইডিএফ আরো দাবি করেছে, হাসান সামরিক সদর দপ্তরের ভেতরে পরিবারের সদস্যদের সাথে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। তবে পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি বলে দাবি করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ও হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, হিজবুল্লাহর হামলায় তিন ইসরাইলি সেনা গুরুতর আহত হওয়ার পর পাল্টা হামলা চালানো হয়।

হিজবুল্লাহ অবশ্য ইসরাইলের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটি অভিযোগ করেছে, লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং পরে হামলার স্থানগুলোকে সামরিক স্থাপনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে শনিবার দেইর আল-জাহরানি এলাকায় আরো কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলায় চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

এর আগে সঙ্ঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরাইল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় স্থল অভিযান পরিচালনা করে। ইসরাইলি বাহিনী এখনো লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র : আল জাজিরা