অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের আলোচনা দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলেছিল, ‘আমি এক পয়সাও দেবো না’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরান ‍ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা
ইরান ‍ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা |সংগৃহীত

ইরানের আলোচনা দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলেছিল, ‘আমি একটি সেন্টও দেবো না’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে।

একটি বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

গালিবাফ বলেন, আমি নিজে কাতার গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি কার্যকর মধ্যস্থতা করেছেন। সেখানে প্রথমে ছয় বিলিয়ন ডলার ছিল এবং পরে তারা আরো ছয় বিলিয়ন ডলার গ্রহণ করে।

তিনি আরো বলেন, কাতার সফরের সময় আলোচনা হয়েছে, নথিপত্র সই হয়েছে এবং মার্কিন ট্রেজারি ডেপুটি সেক্রেটারি ও ভ্যান্সও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি সই হওয়ার পরদিনই সকালে আমাদের সম্পদ অবমুক্ত করা হয়। কেউ কেউ প্রশ্ন করেন আমরা কেন কাতারে গেলাম? উত্তরটা স্পষ্ট— আমরা যদি না যেতাম, তবে এ কাজটি হতো না। আমরা শর্ত পূরণের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, শুধু স্লোগান দেয়ার জন্য নয়। এটাই সেই নেতৃত্বের সাহস ও প্রজ্ঞা, যারা শর্তগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে এবং আমরাও সেই একই শর্ত পূরণ করছি।

শহীদ ইমামের আযানের ধ্বনি পবিত্র কুদস মুক্তির মাধ্যমে পূর্ণতা পাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি কেউ কূটনীতিতে বা মাঠে সাহায্য করতে না পারেন, তবে অন্তত বাধা সৃষ্টি করবেন না এবং ট্রাম্পের কথার পুনরাবৃত্তি করবেন না। ইরানের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে নিয়ে গর্ব করার সুযোগ দিন। ইমামের খুনের প্রতিশোধ নেয়া এবং কুদস মুক্ত করা শুধু স্লোগান দিয়ে সম্ভব নয়। এটি শক্তি দিয়ে অর্জন করতে হয়, কারণ ইরানের শত্রু কেবল শক্তির ভাষা বোঝে। আমি আগেও বলেছি, অর্থনীতির উন্নতি, মানুষের জীবিকা, দেশে বিনিয়োগ এবং সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণের জন্য ইরানকে এ সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে।

গালিবাফ আরো বলেন, আমরা যদি দুর্বল হই, তবে আমাদের অপমানিত হতে হবে। ইরানকে শক্তিশালী হতে হবে এবং আজ মানুষের প্রচেষ্টার কল্যাণে ইরান তার শক্তি দেখিয়েছে।

সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এই সমঝোতা স্মারকের ধারাগুলোর বাস্তবায়নের বিষয়ে বলতে গেলে, প্রথম ধারা অর্থাৎ ইরান ও লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি সুসংহত হচ্ছে। চতুর্থ ধারা বা অবরোধ তুলে নেয়ার বিষয়টি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে পঞ্চম ধারা এবং তেল ও তেলজাত পণ্যের দশম ধারাও বাস্তবায়িত হয়েছে। ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী অবরুদ্ধ ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ অবমুক্ত করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী ১২ বিলিয়ন ডলারও একই প্রক্রিয়ায় আসবে। লেবানন-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়গুলো এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার বিষয়বস্তু একচেটিয়াভাবে কেবল এই ১৪টি ধারা, এর বাইরে অন্য কোনো বিষয় এই সমঝোতা স্মারকে যুক্ত করার সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

নিজ দায়িত্ব প্রসঙ্গে গালিবাফ বলেন, আমার দায়িত্ব হলো ইরানের মানুষের সেবা করা, তাদের পছন্দ-অপছন্দ যাই থাকুক না কেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ছায়াতলে বসবাসকারী সব ইরানি জনগণ— তাদের মতাদর্শ, ধর্ম ও বিশ্বাস নির্বিশেষে সবার সেবা করা আমার কর্তব্য। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের অর্থনীতি গুছিয়ে আনা এবং তাদের সবার প্রতিনিধিত্ব করা আমার দায়িত্ব। একসময় এই মানুষের সন্তানরা দেশ রক্ষায় ফ্রন্টে গিয়ে যুদ্ধ করেছিল, আজ আমরা শহীদদের পথ, ইমাম, বিপ্লবের মূল্যবোধ এবং জাতীয় মূল্যবোধকে আমাদের সব শক্তি দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য বলে মনে করি।

সূত্র: হামশাহরি