মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। ইরানের ওপর টানা ১১তম রাতেও নির্বিচারে বোমা ফেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একের পর এক বিমান হামলা ও আগ্রাসনে যুদ্ধের খরচ নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে ঝড় উঠেছে।
আল জাজিরা বুধবার(২২ জুলাই) জানিয়েছে, মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের বাজেট সংক্রান্ত কমিটির শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন হাজির হন। সেখানে হেগসেথ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধের পেছনে এ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল থেকে গেছে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার। এই খরচের অংক গত মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের দেয়া আগের হিসাবের চেয়ে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেশি। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ও অস্ত্রভাণ্ডারের ঘাটতি মেটাতে তারা ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এক বিশাল সামরিক বাজেটের দাবি তুলেছেন, যার মধ্যে শুধু ইরান যুদ্ধের জন্যই চাওয়া হয়েছে আরো প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার। তবে ডেমোক্রেটিক সিনেটর প্যাটি মারি স্পষ্ট ভাষায় এই দানবীয় বাজেট প্রস্তাবের সমালোচনা করে একে 'অযৌক্তিক' বলে খোঁচা দিয়েছেন। কারণ অন্যান্য স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর ইরান আগ্রাসনের পরোক্ষ প্রভাবের আসল খরচ ইতোমধ্যেই ১৫০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
এই খরচের মাঝেই পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, ইরানের 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন' নামের মাটির গভীরের পারমাণবিক স্থাপনায় 'খুব শিগগিরই এবং অত্যন্ত ভয়াবহভাবে' হামলা চালানো হবে। সপ্তাহজুড়ে তিনি ইরানের তেল ক্ষেত্র, সেতু ধ্বংস এমনকি খনিজ সমৃদ্ধ খার্গ দ্বীপ দখলের মতো দুঃসাহসিক হুমকিও দিয়ে আসছেন। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অবস্থানের বিপরীতে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো মূল্যে মার্কিন আগ্রাসন প্রতিহত করা হবে এবং আঘাত আসলে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের দাবানল আরো ছড়িয়ে দেয়া হবে।
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হাউসিরাও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরুদ্ধ নৌপথের যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এমন রক্তক্ষয়ী উত্তেজনার মধ্যেই সহিংসতা থামানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা। যার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সেনাপ্রধান আসিম মুনির সহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে জরুরী বৈঠক করেছেন দেশটি সফররত ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি।



