জেরুসালেমে নতুন স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণে বুধবার (১ জুলাই) ইসরাইলের সাথে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইল বলেছে, এই পদক্ষেপ দুই দেশের ‘অটুট জোটের’ প্রতিফলন।
নিজের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। একইসাথে তেল আবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশন সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন।
তবে একটি স্থায়ী স্থান নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত দূতাবাসের কার্যক্রম জেরুসালেমের কয়েকটি পৃথক স্থানে পরিচালিত হয়।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, ওয়াশিংটন ‘জেরুসালেমকে ইহুদিদের শাশ্বত, আদি ও সর্বকালীন রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জেরুসালেমের মাটিতে আমাদের আমেরিকান পতাকা স্থায়ীভাবে উড়াব। এখানে একটি নতুন স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এটি ইসরাইলে আমাদের সব কূটনৈতিক কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।’
হাকাবি বলেন, ‘আমি বলব, ঈশ্বর তিন হাজার ৮০০ বছর আগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বহু আগেই বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছিল। আমরা শুধু সেটি স্বীকার করতে এতদিন সময় নিয়েছি।’
জেরুসালেমের দক্ষিণাঞ্চলের অ্যালেনবি কমপ্লেক্সে নতুন দূতাবাসটি নির্মাণ করা হবে।
ট্রাম্পের ২০১৭ সালের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতির ব্যতিক্রম ছিল। সেই নীতি অনুযায়ী, জেরুসালেমের চূড়ান্ত মর্যাদা ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ হওয়ার কথা ছিল।
ইসরাইল-ফিলিস্তিন সঙ্ঘাতের সবচেয়ে বিতর্কিত শহরগুলোর একটি দীর্ঘদিন ধরেই জেরুসালেম।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুসালেম দখলের পর ইসরাইল পুরো শহরকে তার অবিভক্ত রাজধানী ঘোষণা করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিভাগই এ দাবির স্বীকৃতি দেয়নি।
ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুসালেমকে দাবি করে আসছে।
এই পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে বেশিভাগ দেশ তাদের দূতাবাস তেল আবিবে স্থাপন করেছে। তাদের অবস্থান, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসঙ্ঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী শান্তি আলোচনার মাধ্যমেই জেরুসালেমের মর্যাদা নির্ধারণ হওয়া উচিত।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেন, জেরুসালেমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী দূতাবাস নির্মাণের এই চুক্তি দুই দেশের ‘অটুট জোটকে’ আরো দৃঢ় করেছে।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তরের যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজ স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরুর চুক্তির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত আরো গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ পেল।’
তবে ইসরাইলের অধিকারবিষয়ক সংগঠন আদালাহ নির্ধারিত স্থানে দূতাবাস নির্মাণের সমালোচনা করেছে। তাদের ভাষ্য, এটি ‘গভীর একটি ঐতিহাসিক অবিচারকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে’।
সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, দূতাবাসের জন্য নির্ধারিত স্থানটি ‘১৯৫০ সালের বৈষম্যমূলক অনুপস্থিত সম্পত্তি আইনের আওতায় ফিলিস্তিনি ভূমির মালিকদের কাছ থেকে ইসরাইল যে জমি অধিগ্রহণ করেছিল, তার ওপর অবস্থিত’।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মূল ফিলিস্তিনি মালিকদের উত্তরাধিকারীদের পক্ষে তারা এর আগে আপত্তি জানিয়েছিল। ওই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডানের নাগরিক।
সংগঠনটির দাবি, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরাসরি ইসরাইলের অবৈধ উচ্ছেদ ও ভূমি দখলের প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে। একইসাথে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মূল ফিলিস্তিনি মালিক ও তাদের উত্তরাধিকারীদের মৌলিক সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করছে’।
এই দূতাবাস চুক্তি এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একসাথে লড়াই করেছে। একইসাথে ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্যের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: বাসস



