লেবাননে রাসায়নিক আগ্রাসনের নেপথ্যে জার্মান হাত

মানবাধিকার সংস্থা মেডিকো ইন্টারন্যাশনালের দাবি, লেবাননে ইসরাইলের ব্যবহৃত শ্বেত ফসফরাস ও গ্লাইফোসেটের সাথে জার্মান রাসায়নিক কোম্পানি বায়ারের পরোক্ষ যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে বায়ার সরাসরি এসব রাসায়নিক সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর নিষিদ্ধ শ্বেত ফসফরাস ও ক্ষতিকর গ্লাইফোসেট ব্যবহারের পেছনে জার্মানির বহুজাতিক রাসায়নিক কোম্পানি বায়ার গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা মেডিকো ইন্টারন্যাশনাল।

ইসরাইলি আগ্রাসনে ব্যবহৃত এসব মারাত্মক রাসায়নিকের উৎস মূলত জার্মানির বায়ার গ্রুপের মালিকানাধীন কারখানা। লেবানন ও সিরিয়ার অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এই পরিবেশ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের খবর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

লেবাননের কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা অনুযায়ী, আক্রান্ত এলাকার কিছু নমুনায় স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ গুণ বেশি গ্লাইফোসেটের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যকে ভয়াবহ ঝুঁকিতে ফেলেছে।

ইসরাইলের এই রাসায়নিক যুদ্ধাপরাধের সাথে জার্মানির যোগসূত্রটি তৈরি হয়েছে ২০১৮ সালে, যখন জার্মানির বায়ার গ্রুপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্লাইফোসেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মনসান্টো কিনে নেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সোডা স্প্রিংসে অবস্থিত বায়ারের কারখানা থেকেই এই শ্বেত ফসফরাস মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জোরাল প্রমাণ মিলেছে।

গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের চালানো গণহত্যা ও আগ্রাসনে জার্মানির তৈরি অস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ এবং রাসায়নিকের এই অন্যায় ব্যবহার নিয়ে খোদ জার্মানির বুন্দেসটাগেও (পার্লামেন্ট) আলোচনা হয়েছে। তবে মার্কিন ও পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলো বরাবরই ইসরাইলের এসব যুদ্ধাপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে আসছে।

ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উদ্ভিদ বা আগাছানাশক এই বিষাক্ত গ্লাইফোসেট ইসরাইল ২০১৪ সালেই গাজা উপত্যকার অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রথম পরীক্ষা করেছিল।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর যে হামলা চালিয়েছে, সেখানেও এই শ্বেত ফসফরাস ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন শ্বেত ফসফরাস ও গ্লাইফোসেট তৈরির মূল উপাদান এলিমেন্টাল ফসফরাসকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে।

বায়ারের পরিচালনা পর্ষদ সরাসরি ইসরাইল বা মার্কিন সামরিক বাহিনীকে গ্লাইফোসেট দেয়ার কথা অস্বীকার করলেও শ্বেত ফসফরাস সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে তারা রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে। এই নীরবতা ইসরাইলি আগ্রাসনে বায়ার্সের সরাসরি মদদ দেয়ার প্রমাণকেই আরো স্পষ্ট করে তুলেছে।

সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর