ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাত থামার পর আবারো একটি সমঝোতার আশা দেখালেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই একটি খুব ভালো চুক্তি হতে যাচ্ছে।
তবে সিএনএনের হিসাব বলছে, এর আগে অন্তত ৩৭ বার তিনি ‘যুদ্ধবিরতি দোরগোড়ায়’ বলে দাবি করেছেন যা বাস্তবে রূপ নেয়নি। আজকে নতুন করে করা ঘোষণাকে হিসাবে ধরলে এই সংখ্যা ৩৮-এ দাঁড়াবে।
প্রতিবারই ট্রাম্পের এমন আশ্বাসের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় ইসরাইলের একের পর এক আগ্রাসী নীতি আর নেতানিয়াহুর যুদ্ধংদেহী মনোভাব।
এবারো নিউইয়র্ক থেকে হোয়াইট হাউসে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সামনে একই কথা বললেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরানের সাথে আলোচনা আসলে বন্ধ হয়নি এবং দু’পক্ষই তার মাধ্যমে হামলা থামাতে রাজি হয়েছে।
ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট ইসরাইল এই উত্তেজনার মাঝে ট্রাম্প এখন বলছেন, পরমাণু অস্ত্র পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে একটি শক্তিশালী চুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পুরো সঙ্কটের মূলে রয়েছে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী মনোভাব। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরাইল যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এপ্রিল মাসে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হলেও গত রোববার বৈরুতে ইসরাইলি বোমাবর্ষণের পর তা বানচাল হয়ে যাওয়ার মুখে পড়ে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও ইসরাইলের এই হামলার জবাবে ইরান বাধ্য হয়ে উত্তর ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। জবাবে নেতানিয়াহু সরকার আবারো ইরানের ওপর কয়েক দফায় বিমান হামলা চালায়।
তবে নিরীহ মানুষের জানমালের কথা চিন্তা করে এবং মানবিক কারণে ইরানের সামরিক বাহিনী সোমবার সকালে জানায়, তারা ইসরাইলে হামলা সাময়িক স্থগিত করছে।
যদিও তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবাননে ইসরাইলি আক্রমণ না থামলে এর কড়া জবাব দেয়া হবে।
অথচ ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, তারা ইরানে হামলা থামালেও দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান চালিয়েই যাবে।
অথচ যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পেছনে আসলে কোনো সত্যতা নেই। ইরানের সাথে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর দুই মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। গত ৭ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তি চূড়ান্ত করতে আর মাত্র দুই সপ্তাহ লাগবে। সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্পের সেই দুই সপ্তাহ পার হয়ে আরো দুই মাস কেটে গেলেও কোনো সমাধান আসেনি।
ট্রাম্প প্রতিনিয়ত বলে চলেছেন ইরান নাকি চুক্তি করার জন্য ছটফট করছে, অথচ বাস্তব পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। গত ২৩ মার্চ থেকেই ট্রাম্পের এই নাটকের শুরু, যখন তিনি দাবি করেছিলেন ইরান নাকি সব শর্ত মেনে নিয়েছে, অথচ ইরান এই আলোচনার কথাই অস্বীকার করে।
এরপর কখনো তিনি বলেছেন ইরান চুক্তির জন্য ‘মিনতি’ করছে, কখনো বলেছেন তারা ‘মরে যাচ্ছে’। এমনকি মে মাসের মাঝামাঝি এসে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অনুরোধে তিনি সামরিক হামলা দুই-তিন দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছেন।
সূত্র : আনাদোলু, সিএনএন



