যুক্তরাষ্ট্রের হাতে অবৈধভাবে আটক ‘তুসকা’ জাহাজের নাবিকদের অবশেষে মুক্তি দেয়া হয়েছে এবং স্বদেশে ফেরার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকম গত ১৯ এপ্রিল ওমান উপসাগরের চাবাহার বন্দরের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে জাহাজটি জব্দ করেছিল।
গত মাসে জলদস্যুগিরির মতো নজিরবিহীন এই অভিযানে জাহাজটির ২২ জন ক্রু সদস্যকে পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গত সপ্তাহে নাবিকদের পরিবারের সদস্যসহ আরো ছয়জনকে অন্য একটি আঞ্চলিক দেশে পাঠানো হয়েছিল। তেহরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কড়া কূটনৈতিক তৎপরতা ও চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র নাবিকদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে জাহাজটি এর প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
মার্কিন সরকার ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করলে তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং চীন থেকে আসা পণ্যবাহী জাহাজ ‘তুসকা’র ওপর সশস্ত্র জলদস্যুগিরি চালায়।
মার্কিন সেন্টকম দাবি করেছে, ছয় ঘণ্টা ধরে বারবার সতর্ক করার পরেও জাহাজটি তাদের অবরোধ মেনে চলেনি।
অন্যদিকে, ইরান এই ঘটনাকে স্রেফ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ‘সশস্ত্র জলদস্যুগিরি’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছিল।
এই সঙ্ঘাতের জেরে বর্তমানে কয়েকশ জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক ওই পানিসীমায় আটকা পড়ে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অপারেশন ফ্রিডম’ নামে নতুন এক সামরিক তৎপরতার ঘোষণা দিলেও ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করলে সেটাকে সরাসরি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ ও দ্য ডন


